বাংলাদেশ সরকার নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করে শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনে শপথ অনুষ্ঠান হবে এবং এতে দক্ষিণ এশিয়া ও অন্যান্য এশীয় দেশের এক ডজনেরও বেশি শীর্ষ নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নরেন্দ্র মোদি, শেহবাজ শারিফসহ বহু দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি প্রত্যাশিত।
বিএনপি যৌথ সচিব জেনারেল (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) হুমায়ুন কবিরের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার শপথ অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক দেশগুলোর নেতাদের আমন্ত্রণ জানাবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপটি পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
একজন বিদেশ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে চীন সরকারসহ ১২টিরও বেশি দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছে। তবে, আমন্ত্রিত দেশগুলোর তালিকা বা প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অতিরিক্ত কোনো বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।
বিএনপি সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সংকেত দিয়েছে। হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের খালেদা জিয়া-র অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ এবং নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনের পর তারারেক রহমানের সঙ্গে ফোনালাপকে ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই দুইটি ঘটনা, ভারতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বাংলাদেশে উপস্থিতি এবং নরেন্দ্র মোদির সরাসরি যোগাযোগ, দু’দেশের কূটনৈতিক বন্ধনকে পুনরুজ্জীবিত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। উভয় পক্ষই পারস্পরিক বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সহযোগিতা বাড়াতে ইচ্ছুক।
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিতির জন্য আমন্ত্রিত দেশের মধ্যে পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, মায়ানমার এবং চীন সরকার অন্তর্ভুক্ত। এই দেশগুলোর নেতারা শাসনকালের পরিবর্তন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার জন্য একত্রিত হওয়ার সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশ সরকার এই আমন্ত্রণকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সমর্থন অর্জনের কৌশল হিসেবে উপস্থাপন করেছে। শপথ অনুষ্ঠানে বৈশ্বিক মিডিয়া উপস্থিত থাকবে, যা দেশের নতুন রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠন করবে।
অধিকন্তু, শপথ অনুষ্ঠানের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। এতে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি, বাণিজ্য চুক্তি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বিষয়ক আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিএনপি নেতৃত্বের মতে, এই আমন্ত্রণের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি পাবে। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণে বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে।
শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলাকালীন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে। বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী ও গৃহ নিরাপত্তা বিভাগ সমন্বিতভাবে উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, যাতে আন্তর্জাতিক অতিথিদের নিরাপদে উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।
এই আমন্ত্রণের ফলে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করতে চায়। আঞ্চলিক সহযোগিতা, বাণিজ্যিক সুযোগ এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন মন্ত্রিসভা সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
শপথ অনুষ্ঠান শেষে, নতুন সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কৌশল উপস্থাপন করবে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং আঞ্চলিক সংহতি শক্তিশালী করা হবে।



