বিএনপি দুই দশকের পর আবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে; দলীয় নেতা তারেক রহমানকে দেশের বিভক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ একত্রিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ সময় আন্দোলন, নির্যাতন ও কারাবাসের পর এখন দলটি জনমতের ভার বহন করে, তবে উচ্চ প্রত্যাশা ও পর্বতময় বাধা তারেকের সামনে অপেক্ষা করছে।
২০০১ সালে বিএনপি শাসনকালে সরকারী দায়িত্বে না থাকলেও, তারেক রহমান দেশের প্রশাসনিক কাজের কাছাকাছি পর্যবেক্ষণ করতেন এবং প্রভাব বিস্তার করতেন।
শক্তির পরিবর্তনের পর তিনি প্রায় পনেরো বছর বিদেশে নির্বাসনে ছিলেন, তবে দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং সংগঠনের মনোবল বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
নির্বাসনের সময় তিনি ভবিষ্যৎ শাসনের পরিকল্পনা গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে গেছেন, যা পরে দেশে ফিরে তারেকের বক্তৃতায় প্রকাশ পায়।
দেশে ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি জনসমক্ষে তার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন, যেখানে নতুন সরকারের দিকনির্দেশনা ও অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়।
২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি শপথের আগে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে মন্ত্রিসভা গঠন ও পোস্ট-ইলেকশন আনুষ্ঠানিকতা নির্ধারিত হবে।
বিএনপি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২০৯ আসনে বিশাল জয় অর্জন করেছে; এই বিজয়কে বাস্তবায়নযোগ্য নীতি ও কর্মসূচিতে রূপান্তর করা দলের প্রধান কাজ হবে।
দলটি এখন রাজনৈতিক বিভাজন দূর করে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও মুদ্রা স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সরকার গঠনের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকে বহু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে এবং অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, দলের দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এই সমস্যাগুলো অতিক্রমের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করবে।
দলকে এখন নির্বাচনের সময়কালে গৃহীত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সক্ষমতা প্রদর্শন করতে হবে, যাতে জনগণের আস্থা বজায় থাকে।
বিপক্ষ ও জোটের দলগুলোও নজর রাখবে কীভাবে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হবে, কোন নীতি অগ্রাধিকার পাবে এবং সরকারী কাঠামোতে কী পরিবর্তন আনা হবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও প্রশাসনিক দক্ষতা না থাকলে সরকার গঠন ব্যর্থ হতে পারে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে।
শুক্রবার নির্ধারিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রিসভা গঠন, নীতি নির্ধারণ ও তৎকালীন জরুরি কাজের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।
এই বৈঠকই নতুন সরকারের প্রথম পদক্ষেপ নির্ধারণের মূল মঞ্চ হবে, যেখানে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ও কর্মপরিকল্পনা নির্ধারিত হবে।
সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সফল হলে, তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে; অন্যথায় অস্থিরতা ও বিভাজন বাড়ার সম্ভাবনা রয়ে যাবে।
বিএনপি এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের দায়িত্ব গ্রহণ করতে প্রস্তুত, এবং এই দায়িত্বের সাফল্যই দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি হবে।



