ভিলা পার্কে অনুষ্ঠিত এফএ কাপ পঞ্চম রাউন্ডের ম্যাচে নিউক্যাসল ৩-২ স্কোরে অ্যাস্টন ভিলাকে পরাজিত করে টানা অগ্রগতি নিশ্চিত করেছে। স্যান্ড্রো টোনালি দু’বার গোল করে দলের নেতৃত্বে ছিলেন, আর নিক ওলটেমেডের শেষ মুহূর্তের গোলই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে। অ্যাস্টন ভিলার গোলকিপার মার্কো বিজটের লাল কার্ড এবং পরবর্তীতে দশজন খেলোয়াড়ে খেলতে বাধ্য হওয়াও ম্যাচের গতি পরিবর্তন করে।
প্রথমার্ধে অ্যাস্টন ভিলার ট্যামি এব্রাহাম ২০১৯ সালের পর প্রথম গোল করেন, ডগলাস লুইজের ফ্রি-কিক থেকে পাসে রক্ষার মধ্যে শটটি নিকটবর্তী রক্ষকের পা দিয়ে আটকে যায়, তবে অফসাইডের সঙ্কেত সত্ত্বেও গোলটি বৈধ ধরা হয়। এই গোলের পর নিউক্যাসল দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়, স্যান্ড্রো টোনালি প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে পেনাল্টি বক্সের কাছাকাছি থেকে শট মারেন এবং গোলের জয়লাভ করেন।
ভিলার রক্ষণে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দেয়, বিশেষ করে লুইস হল এবং হার্ভি বার্নসের ওপর প্রথমার্ধে করা চ্যালেঞ্জগুলোতে রেফারির সিদ্ধান্তে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ভিলার ডিফেন্সার লুকাস ডিগনের জ্যাকব মারফির সঙ্গে সংঘর্ষে হলুদ কার্ড পাওয়া সত্ত্বেও রেফারির তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে কোনো অতিরিক্ত শাস্তি না দিয়ে খেলা চলতে থাকে।
দ্বিতীয়ার্ধে টোনালি আবারও গোলের সুযোগ পান, তিনি ডিফেন্সের ফাঁক দিয়ে শট মারেন এবং দ্বিতীয় গোলটি নথিভুক্ত হয়। এই মুহূর্তে ম্যাচের ভারসাম্য নিউক্যাসলের পক্ষে ঝুঁকে যায়, তবে ভিলার রক্ষণে এখনও প্রতিক্রিয়া দেখার সুযোগ থাকে।
ম্যাচের সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনা ঘটে যখন মার্কো বিজট ৪৫ গজ দূরে মুরফির ওপর শেষ-মানের ফাউল করেন। রেফারির তৎক্ষণাৎ লাল কার্ডের সিদ্ধান্তে বিজটের খেলা থেকে বহিষ্কার হয়। পরবর্তীতে টাচলাইন ভিআর স্ক্রিনে পুনরায় দেখার পরেও রেফারির সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকে, যা ভিলার খেলোয়াড় ও কোচের মধ্যে অসন্তোষের কারণ হয়।
বিজটের বহিষ্কারের ফলে অ্যাস্টন ভিলা দশজন খেলোয়াড়ে সীমাবদ্ধ হয়ে যায় এবং ইমি মার্টিনেজকে গোলরক্ষক হিসেবে পরিবর্তন করা হয়। তবে দশজনের ঘাটতি সত্ত্বেও ভিলার আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় লিয়ন বেইলি ত্যাগ করে, যা দলের রক্ষণে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
ম্যাচের শেষ পর্যায়ে নিউক্যাসল আরও একবার আক্রমণ করে, নিক ওলটেমেডের শট গোলের লাইনে গিয়ে শেষ মুহূর্তে জয়ী গোলের রেকর্ড করে। এই গোলই ম্যাচের চূড়ান্ত স্কোর নির্ধারণ করে, ফলে নিউক্যাসল এফএ কাপের পঞ্চম রাউন্ডে অগ্রসর হয়।
ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখায় নিউক্যাসল তিনটি গোলের মাধ্যমে অ্যাস্টন ভিলার দুই গোলের তুলনায় বেশি শট তৈরি করেছে, যদিও ভিলার শুটিং নির্ভুলতা কিছুটা উচ্চ ছিল। ভিলার রক্ষণে একাধিক ভুল সিদ্ধান্তের ফলে রেফারির ভিডিও সহায়তা (VAR) ব্যবহারে বিতর্ক বাড়ে, বিশেষ করে টোনালির দ্বিতীয় গোলের পর অফসাইডের সঙ্কেত সত্ত্বেও গোলটি বৈধ ধরা হয়।
দুয়োটি দলের কোচ ম্যাচের পর তাদের মতামত প্রকাশ করেন। নিউক্যাসলের কোচ এডি হোউ উল্লেখ করেন যে দলটি কঠিন রেফারিং পরিস্থিতি সত্ত্বেও মনোযোগ বজায় রেখেছে এবং শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে অ্যাস্টন ভিলার কোচ রিফ্লেক্ট করেন যে রেফারির সিদ্ধান্তে দলটি বড় ধাক্কা পেয়েছে, বিশেষ করে বিজটের লাল কার্ড এবং VAR-এর ব্যবহার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
নিউক্যাসল এখন এফএ কাপের পরবর্তী রাউন্ডে নতুন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, যেখানে তারা রেফারিং সমস্যার মোকাবিলায় আরও সতর্কতা অবলম্বন করবে বলে আশা করা যায়। অ্যাস্টন ভিলা meanwhile তাদের লিগের পরবর্তী ম্যাচে পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করবে, তবে রেফারির সিদ্ধান্তের পুনর্মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
এই ম্যাচটি এফএ কাপের ইতিহাসে VAR ব্যবহারের সীমা ও রেফারির সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। উভয় দলই ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রযুক্তি ও মানবিক বিচারের সমন্বয় কীভাবে করা যায় তা নিয়ে বিশ্লেষণ করবে।



