ক্যারিম আইনৌজ পরিচালিত ‘রোজবুশ প্রুনিং’ বেরলিন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে অংশগ্রহণ করেছে। ছবিতে কলাম টার্নার, রাইলি কিউ, জেমি বেল, লুকাস গেজ, এলেনা আনায়া, ট্রেসি লেটস, এল ফ্যানিং এবং পামেলা অ্যান্ডারসন প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্রের স্ক্রিনরাইটার এফথিমিস ফিলিপ্পু, এবং মোট দৈর্ঘ্য এক ঘণ্টা পঁয়ত্রিশ মিনিট।
চিত্রটি একটি আমেরিকান পরিবারকে কেন্দ্র করে, যারা ছয় বছর আগে নিউ ইয়র্ক থেকে ক্যাটালোনিয়ার উপকূলে স্থানান্তরিত হয়েছে। পরিবারটি বিশাল উত্তরাধিকার পেয়ে আর কাজের প্রয়োজন নেই, ফলে ফ্যাশন ও টেকনো সঙ্গীতের প্রতি অতি আগ্রহ গড়ে উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একজন বোটেগা ভেনেটা লোফার স্বপ্ন দেখেন, যেন সেগুলো আকাশে ভাসছে।
মৃত মা পামেলা অ্যান্ডারসন গাউডির স্থাপত্যে মুগ্ধ হয়ে এই অঞ্চল বেছে নিয়েছিলেন, আর স্বামী ট্রেসি লেটস ও তাদের চারজন প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান—এড, অ্যানা, জ্যাক এবং রবার্ট—গাউডির কাজকে ক্রিস্টোবাল বালেন্সিয়াগার জন্মস্থান হিসেবে পূজা করে। বালেন্সিয়াগা প্রকৃতপক্ষে বাস্ক দেশের একটি শহরে জন্মগ্রহণ করেছেন, যা ছবির ব্যঙ্গাত্মক উপাদানের অংশ।
পরিবারের এই ভুল ধারণা এবং তাদের শূন্য কাজের জীবনধারা ছবির মূল ব্যঙ্গের বিষয়বস্তু। ক্যারিম আইনৌজ গাঢ় রঙের প্যালেট এবং উচ্চ-চমকপ্রদ ভিজ্যুয়াল স্টাইল ব্যবহার করে আধুনিক বুর্জোয়া সমাজের পৃষ্ঠস্থতা উন্মোচন করেছেন। ফ্যাশন শো, ডিজিটাল পার্টি এবং টেকনো রিদমের মাধ্যমে চরিত্রদের অস্থায়ী আনন্দের অনুসরণকে চিত্রিত করা হয়েছে।
‘রোজবুশ প্রুনিং’ মারকো বেলোক্কিওয়ের ১৯৬৫ সালের প্রথম চলচ্চিত্র ‘ফিস্টস ইন দ্য পকেট’ থেকে অনুপ্রাণিত। বেলোক্কিওয়ের কাজটি ইতালীয় বুর্জোয়া সমাজের তীক্ষ্ণ সমালোচনা হিসেবে পরিচিত, আর আইনৌজের সংস্করণে তা ক্যাটালোনিয়ার সমৃদ্ধি ও শূন্যতা নিয়ে আধুনিক দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে। স্ক্রিনরাইটার ফিলিপ্পু মূল গল্পে অতিরিক্ত রঙ ও সঙ্গীতের স্তর যুক্ত করে নতুন স্বাদ এনে দিয়েছেন।
চিত্রের সাউন্ডট্র্যাকে পেট শপ বয়েজের ‘প্যানিনারো’ গানটি দু’বার উচ্চস্বরে বাজানো হয়েছে। এই সিংথ-পপ হিটটি ১৯৮০-এর দশকের ইতালীয় যুব সংস্কৃতির হেডোনিক দিককে স্মরণ করিয়ে দেয়, এবং ছবির তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রিদম যোগ করে। গানের তীব্র বিটটি দৃশ্যের ভিজ্যুয়াল তীব্রতার সঙ্গে সমন্বয় করে দর্শকের অনুভূতিকে তীব্র করে তুলেছে।
চিত্রের ভিজ্যুয়াল নকশা উচ্চ-চমকপ্রদ এবং গাঢ় রঙের সমন্বয়ে গঠিত, যা পরিবারিক শূন্যতা ও অতিরিক্ত ভোগের মধ্যে তীব্র বৈপরীত্য তৈরি করে। ফ্যাশন আইটেম, বিশেষ করে বোটেগা ভেনেটা লোফার, স্বপ্নের মতো ভাসমান দৃশ্যে উপস্থাপিত হয়েছে, যা চরিত্রদের অবাস্তব আকাঙ্ক্ষাকে প্রতীকী করে। টেকনো সঙ্গীতের রিদম ও আলো-ছায়ার খেলা একসাথে আধুনিক নগর জীবনের তীব্রতা প্রকাশ করে।
কাস্টের মধ্যে কলাম টার্নার এড চরিত্রে, রাইলি কিউ অ্যানা চরিত্রে, জেমি বেল জ্যাক চরিত্রে, লুকাস গেজ রবার্ট চরিত্রে, এলেনা আনায়া এবং এল ফ্যানিং পারিবারিক বন্ধনের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেছেন। পামেলা অ্যান্ডারসনের মায়ের ভূমিকায় উপস্থিতি ছবির শৈল্পিক দিককে আরও সমৃদ্ধ করেছে, আর ট্রেসি লেটসের স্বামী চরিত্রটি পরিবারের ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে।
সমালোচকদের মতে, ছবিটি শৈল্পিক দৃষ্টিকোণ থেকে চমৎকার এবং ব্যঙ্গাত্মক, তবে কিছু অংশে অতিরিক্ত শৈলীমূলক হওয়ায় স্বাদে টকত্ব রয়ে যায়। টার্ট এবং মজার মুহূর্তগুলো দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করে, তবে শেষের দিকে গল্পের গভীরতা কমে যাওয়ার অনুভূতি পাওয়া যায়। সামগ্রিকভাবে, ‘রোজবুশ প্রুনিং’ ফ্যাশন, সঙ্গীত এবং সামাজিক ব্যঙ্গকে একত্রে মেশিয়ে একটি অনন্য সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
চিত্রটি বেরলিনের আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থাপিত হওয়ায়, বিশ্বব্যাপী দর্শকরা আধুনিক বুর্জোয়া সমাজের পৃষ্ঠস্থতা ও অতিরিক্ত ভোগের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পেতে পারেন। ফ্যাশন ও সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহী দর্শক, পাশাপাশি সামাজিক ব্যঙ্গের অনুসন্ধানকারী cinephiles, এই ছবিতে সমৃদ্ধ ভিজ্যুয়াল ও সাউন্ডের সমন্বয় উপভোগ করতে পারবেন।



