প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ১০ তারিখে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে চড়ে জার্মানির উদ্দেশ্যে রওনা হন। প্রস্থানের আগে তিনি কর্মস্থল থেকে যথাযথভাবে বিদায় নেয়ার কথা ফেসবুকে জানিয়ে দেন। তার পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ৮, ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি আইসিটি, পোস্ট ও টেলিকম বিভাগ (পিটিডি) এবং বিটিআরসি থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় গ্রহণ করেন। ১০ ফেব্রুয়ারি শেষ কর্মদিবস হিসেবে নির্ধারিত হয় এবং সেই দিন সহকর্মীদের সঙ্গে ফেয়ারওয়েল ডিনার অনুষ্ঠিত হয়। ডিনারে গান গেয়ে সহকর্মীরা তাকে বিদায় জানায়, যা তিনি “ওয়ালে পাবেন” বলে বর্ণনা করেছেন।
বিদায়ের সময় একজন সহকর্মী ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, ফয়েজ জানান তিনি দ্রুত নতুন চাকরি খুঁজতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সেবা করার সময় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং সঞ্চয় সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি তাকে কর্মজীবন থেকে সরে এসে পরিবারে মনোযোগ দিতে বাধ্য করেছে।
ব্যক্তিগত কারণের মধ্যে তিনি ছেলের স্কুলে প্যারেন্টস মিটিং এবং স্ত্রীর জরুরি চিকিৎসা উল্লেখ করেন। দীর্ঘ সময় পরিবারকে সময় দিতে না পারায় এখন তিনি পরিবারকে কিছুটা সময় দিতে চান। তাছাড়া, তিনি ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
ফেসবুকে তিনি জানান, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বহু বই উপহার পেয়েছেন এবং সেগুলো সঙ্গে নিয়ে গেছেন। দীর্ঘ ক্লান্তি ও অনিদ্রা থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য তিনি দীর্ঘ বিশ্রাম প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। বিশ্রামের পাশাপাশি উপহারপ্রাপ্ত বইগুলো পড়ে মনোযোগ বাড়াতে চান। তিনি অতীতের পত্রিকার কলাম ও মৌলিক লেখাগুলোও পুনরায় পড়ার পরিকল্পনা করেছেন।
অখণ্ডতা রক্ষার জন্য তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি কোনো দুর্নীতি করেননি। শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করেছেন। পুরনো আইন ও নীতি পরিবর্তনে প্রায় পাঁচ বছর কাজ করে তিনি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছেন। এই পরিবর্তনগুলো যদি স্বীকৃত না হয়, তবে তিনি আরও ব্যাখ্যা দিতে প্রস্তুত।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের এই বিবৃতি সরকারী নীতি ও কর্মপরিবেশের ওপর আলো ফেলেছে এবং তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। তার প্রস্থান এবং ব্যক্তিগত কারণের ব্যাখ্যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, বিশেষ করে সরকারী কর্মী ও উপদেষ্টাদের পদত্যাগের ধারার প্রেক্ষাপটে। সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয় হতে পারে।
ফয়েজের দেশ ছাড়ার পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি জার্মানিতে কী ধরনের কাজ করবেন বা কীভাবে দেশের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখবেন, তা ভবিষ্যতে প্রকাশিত হতে পারে। তার প্রস্থান সরকারী কর্মী ব্যবস্থাপনা ও নীতি সংস্কারের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।



