মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে শনিবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কীয়ার স্টার্মার বিশ্বনেতাদের সামনে ইউরোপকে তার মানুষ, মূল্যবোধ এবং জীবনযাত্রা রক্ষার জন্য লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপকে নিজের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়িয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে অর্থনৈতিক সহায়তা সহ গভীরতর সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
স্টার্মার জোর দিয়ে বলেন, মহাদেশের প্রতিরক্ষা দায়িত্বে নিজস্ব পা দিয়ে দাঁড়ানো জরুরি, অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। তিনি যুক্তরাজ্যের ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে আর্টিক ও হাই নর্থে পাঠানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেন, যা রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকির মোকাবেলায় নিরাপত্তা শক্তিশালী করবে।
হাই নর্থ বলতে পৃথিবীর সর্বোচ্চ উত্তরাংশ, আর্টিক বৃত্ত এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলকে বোঝায়। স্টার্মার উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অন্যান্য ন্যাটো সদস্য দেশগুলোও এই উদ্যোগে অংশ নেবে, যাতে রাশিয়ার আক্রমণাত্মক নীতির বিরুদ্ধে সমন্বিত প্রতিরক্ষা গড়ে ওঠে।
তিনি সতর্ক করেন, ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ শান্তি চুক্তি যদি রাশিয়ার পুনরায় অস্ত্রায়নকে ত্বরান্বিত করে, তবে ইউরোপের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। তাই ইউরোপকে আক্রমণ নিরুৎসাহিত করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
স্টার্মার বলেন, “শক্তিশালী সামরিক ক্ষমতা গড়ে তোলা আজকের সময়ের মুদ্রা,” এবং এটাই ইউরোপের নিরাপত্তা কৌশলের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত।
মিউনিখ সম্মেলনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোর আর্টিকল ৫ পালন করার ইচ্ছা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছিলেন। আর্টিকল ৫ ন্যাটোর মূল নীতি, যা ১৯৪৯ সালে গঠিত হয় এবং ৩২টি সদস্যকে একত্রিত করে, যেখানে কোনো এক সদস্যের ওপর আক্রমণকে সকলের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
স্টার্মার স্পষ্টভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সন্দেহকে খারিজ করে বলেন, যুক্তরাজ্যের আর্টিকল ৫ প্রতিশ্রুতি এখনো আগের মতোই দৃঢ়। তিনি নিশ্চিত করেন, কোনো সদস্যকে সাহায্যের আহ্বান করা হলে যুক্তরাজ্য তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেবে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়েন স্টার্মারের বক্তব্যের আগে তাকে “অটল মিত্র ও বন্ধু” বলে প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপ এবং যুক্তরাজ্য উভয়ই বহিরাগত হুমকির মুখে রয়েছে এবং সমন্বিত প্রতিরক্ষা কৌশলই একমাত্র সমাধান।
স্টার্মারের এই আহ্বান ন্যাটো ও ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে নতুন সমন্বয় ও সহযোগিতার সম্ভাবনা উন্মোচন করে। যুক্তরাজ্য-ইইউ অর্থনৈতিক ও সামরিক সংযোগের গভীরতা বাড়লে ভবিষ্যতে ইউরোপের প্রতিরক্ষা নীতি ও ন্যাটোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থানকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।



