ডিজনি, বিশ্ববিখ্যাত মিডিয়া সংস্থা, বাইটড্যান্সের নতুন জেনারেটিভ এআই টুল সিড্যান্স ২.০-কে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাইটড্যান্স তার টুলে ডিজনির স্টার ওয়ার্স, মার্ভেল এবং অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজের চরিত্রগুলোকে অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করেছে। এই পদক্ষেপটি এআই প্রযুক্তি ও মেধাস্বত্বের সংযোগস্থলে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে।
বাইটড্যান্সের সিড্যান্স ২.০-কে লক্ষ্য করে ডিজনি যে চিঠি পাঠিয়েছে, তাতে টুলটি ‘পাইরেটেড লাইব্রেরি’ ব্যবহার করে ডিজনির কপিরাইটেড চরিত্রগুলোকে পুনরুৎপাদন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই লাইব্রেরি ডিজনির বৌদ্ধিক সম্পত্তিকে পাবলিক ডোমেইন ক্লিপ আর্টের মতো ব্যবহার করার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হয়। ডিজনি এই বিষয়টি সমাধানের জন্য অবিলম্বে টুলের ব্যবহার বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে।
চিঠিতে সিড্যান্স ২.০-তে তৈরি করা কয়েকটি ভিডিওর উদাহরণ সংযুক্ত করা হয়েছে, যেখানে স্পাইডার-ম্যান, ডার্থ ভেডার, পিটার গ্রিফিনসহ বিভিন্ন পরিচিত চরিত্র দেখা যায়। এই উদাহরণগুলো দেখায় যে, এআই টুলটি সরাসরি ডিজনির মূল চরিত্রের চেহারা ও বৈশিষ্ট্য পুনরায় তৈরি করেছে। ফলে, কপিরাইট ধারক হিসেবে ডিজনির অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সিড্যান্স ২.0 বৃহস্পতিবারই প্রকাশিত হওয়ার পরই শিল্প জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। টুলটির দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন সত্ত্বেও, হলিউডের বড় স্টুডিওগুলো থেকে তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগের সাড়া পেয়েছে। এআই-ভিত্তিক কন্টেন্ট জেনারেশন প্রযুক্তি দ্রুত উন্নতি করলেও, মেধাস্বত্ব রক্ষার প্রশ্ন এখনো সমাধানহীন রয়ে গেছে।
ডিজনি পূর্বেও এআই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সেপ্টেম্বর মাসে ক্যারেক্টার.এআই-কে একই ধরনের কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সেই সময়ও টুলটি ডিজনির চরিত্র ব্যবহার করে কন্টেন্ট তৈরি করছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। এই ধারাবাহিকতা দেখায় যে, ডিজনি এআই ক্ষেত্রের মেধাস্বত্ব রক্ষায় সক্রিয় অবস্থান গ্রহণ করছে।
কয়েক মাস পর ডিজনি গুগলকে লক্ষ্য করে একই রকম অভিযোগ উত্থাপন করে। গুগল তার এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য ডিজনির কন্টেন্ট ব্যবহার করেছে বলে দাবি করা হয়েছিল। গুগলকে অননুমোদিতভাবে বিশাল পরিমাণে ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করার জন্য সমালোচনা করা হয়েছিল। এই মামলাগুলো এআই প্রশিক্ষণ ডেটা সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনার দিক নির্দেশ করে।
অন্যদিকে, ডিজনি ওপেনএআইয়ের সঙ্গে তিন বছরের লাইসেন্স চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ওপেনএআইকে ডিজনির বৌদ্ধিক সম্পত্তি ব্যবহার করে ছবি ও ভিডিও তৈরি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। লাইসেন্সের শর্তে কন্টেন্টের বাণিজ্যিক ব্যবহার ও ক্রেডিট প্রদান নিয়মিত করা হয়েছে। এই সহযোগিতা দেখায় যে, ডিজনি নির্দিষ্ট শর্তে এআই প্রযুক্তিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।
সিড্যান্স ২.০-র ক্ষেত্রে বাইটড্যান্সের অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়, তবে চিঠি পাওয়ার পর টুলের ব্যবহার বন্ধ করা বা লাইসেন্স চুক্তি অনুসন্ধান করা সম্ভব। এআই টুলের দ্রুত উন্নয়ন ও বাজারে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত নিয়মাবলী পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। শিল্প সংস্থাগুলোকে প্রযুক্তি ও আইনগত দিক থেকে সমন্বিত নীতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
বিনোদন শিল্পের ভবিষ্যৎ এখন এআই ও কপিরাইটের সমন্বয়ে নির্ধারিত হবে। ডিজনি ও অন্যান্য বড় স্টুডিওগুলো কিভাবে তাদের সম্পদ রক্ষা করবে, তা এআই ডেভেলপারদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। একই সঙ্গে, লাইসেন্সিং মডেল ও সহযোগিতার মাধ্যমে সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তির সমন্বয় সম্ভব হতে পারে। এই পরিবর্তনশীল পরিবেশে শিল্পের সকল অংশীদারকে স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবহারের নীতি মেনে চলা উচিত।
শেষে, বাইটড্যান্সের সিড্যান্স ২.০-র ওপর ডিজনির পদক্ষেপ এআই যুগে মেধাস্বত্ব রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিরোধের সংখ্যা বাড়তে পারে, তাই আইনগত কাঠামোকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা অপরিহার্য। শিল্পের সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন দুটোই একসঙ্গে বিকশিত হলে, দর্শক ও ব্যবহারকারীর জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি হবে।



