অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ১৪ ফেব্রুয়ারি শনি দিন জার্মানির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনি এমিরেটস এয়ারলাইনসের EK‑583 ফ্লাইটে চড়ে রওনা হন।
বিমানবন্দরের সূত্র অনুযায়ী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের এই যাত্রা পূর্বে জানানো ছুটির সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারি ছুটিতে ছিলেন এবং উভয় আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানিয়ে চলে গেছেন। সহযোগী কর্মকর্তার মতে, আজকের রওনা তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের সরকারি কর্মজীবন ২০২৫ সালের ৫ মার্চ প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে শুরু হয়। তার দায়িত্বের মধ্যে আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন তদারকি করা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর আগে, তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে আইসিটি পলিসি অ্যাডভাইজার পদে নিয়োগ পান, যেখানে তিনি ডিজিটাল রূপান্তর পরিকল্পনা ও সাইবার নিরাপত্তা নীতি গঠনে ভূমিকা রাখেন।
শিক্ষাগত দৃষ্টিকোণ থেকে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বুয়েটের স্নাতক। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি কম্পিউটার সায়েন্সে বিশেষজ্ঞতা অর্জন করেন এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি নীতি গবেষণায় অংশ নেন। তার একাডেমিক পটভূমি তাকে সরকারি আইসিটি প্রকল্পে প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে সমর্থন প্রদান করতে সক্ষম করেছে।
তার অপ্রত্যাশিত প্রস্থানের ফলে মন্ত্রণালয়ের আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে নেতৃত্বের শূন্যতা দেখা দিতে পারে। সরকারকে শীঘ্রই এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে চলমান ডিজিটাল প্রকল্পে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। বিশেষ করে, চলমান ই-গভর্নেন্স উদ্যোগ এবং সাইবার নিরাপত্তা কৌশল বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের প্রস্থান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে একটি পরিবর্তন সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে সরকারী সূত্রে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি যে তিনি কেন বিদেশে গমন করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ সরকার আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক স্তরে সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ নিতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের জার্মানির উদ্দেশে রওনা তার ব্যক্তিগত পরিকল্পনার ফলাফল, তবে তার পদত্যাগ মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনা ও নীতি বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারকে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর প্রক্রিয়াকে অগ্রসর রাখতে হবে।



