ইরানের প্রবাসী বিরোধী নেতা রেজা পাহলভি মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন সরকারকে ইরান সরকারে সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য ত্বরান্বিত করার দাবি জানালেন। তিনি যুক্তি দেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ না হলে প্রাণহানি বাড়তে থাকবে এবং জনগণকে রাস্তায় ফিরে আসা কঠিন হবে।
রেজা, যিনি ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে বিদেশে বসবাস করছেন, রোজার্টসকে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ইরান সরকারের পতনের প্রান্তে রয়েছে এবং কোনো সামরিক আক্রমণ সরকারকে আরও দুর্বল করে তুলতে পারে অথবা পতনের গতি ত্বরান্বিত করতে পারে। তিনি বলছেন, সময়ের সঠিক ব্যবহার না করলে দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে যাবে।
সাক্ষাৎকারে রেজা জোর দিয়ে বলেছিলেন, “এটি সময়ের ব্যাপার, আমরা আশা করি যে কোনো আক্রমণ প্রক্রিয়াটিকে ত্বরান্বিত করবে এবং জনগণ অবশেষে রাস্তায় ফিরে আসবে।” তিনি যুক্তি দেন, যদি আলোচনায় কোনো ফল না আসে তবে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপই একমাত্র বিকল্প, যা প্রাণরক্ষার পথ হতে পারে।
ইরান সরকার সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে কঠোরভাবে দমন করেছে, ফলে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এই দমনমূলক নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মধ্যে মার্কিন সরকার পূর্বে পেন্টাগন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পাঠিয়েছিল, যা ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক আক্রমণের ইঙ্গিত দিয়েছিল।
ট্রাম্প প্রশাসনও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের সঙ্গে ওমানে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছে, তবে একই সময়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথোপকথনের পর ট্রাম্প ইরানের জন্য শাসন পরিবর্তনকে সর্বোত্তম সমাধান বলে উল্লেখ করেন। তিনি অতীতে বহুবার শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
রেজা পাহলভি যুক্তি দেন, “জনগণ আশা করছে যে এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে কোনো আলোচনা ফলপ্রসূ নয়, তখনই যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সময় হবে।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি উল্লেখ করে বলেন, ট্রাম্প জনগণের পাশে দাঁড়াবেন এবং হস্তক্ষেপের মাধ্যমে প্রাণরক্ষা নিশ্চিত করবেন।
ইরান সরকারের কঠোর দমন নীতি এবং বিক্ষোভের ফলে সৃষ্ট মানবিক সংকটের মধ্যে রেজা ইঙ্গিত করেন, যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত পদক্ষেপ না নেয় তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তি বাড়তে থাকবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানান, পারমাণবিক চুক্তির আলোচনায় সময় নষ্ট না করে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ইরানি কর্মকর্তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও রেজা তার বক্তব্য প্রকাশ করেন, যা ইরান সরকারের আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিচ্ছিন্নতার ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সময়ের সঠিক ব্যবহার না করলে ইরানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে যাবে।
ইরান সরকার পূর্বে বিক্ষোভ দমনে হাজার হাজার মানুষকে প্রাণহানি করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দা সত্ত্বেও কোনো স্বীকৃত সমাধান বের হয়নি। রেজা এই পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা হিসেবে উপস্থাপন করেন।
মার্কিন সরকারও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং তেহরানের সঙ্গে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কথা বলেছে। তবে রেজা দাবি করেন, আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধান না হলে সামরিক হস্তক্ষেপই একমাত্র কার্যকর বিকল্প।
রেজা পাহলভি শেষ পর্যন্ত ইরান সরকারের পতনের সম্ভাবনা ও যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জোরালো বক্তব্য রাখেন, যা ইরান ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে।



