কিউবার রাজধানী হাভানায় অনুষ্ঠিত হতে যেত বার্ষিক হাবানো সিগার উৎসব, তবে জ্বালানি সংকটের কারণে এটি স্থগিত করা হয়েছে। আয়োজন কমিটি শনিবার জানিয়েছে যে ফেব্রুয়ারি শেষের পাঁচ দিনের অনুষ্ঠানটি অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মার্কিন সরকারের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও আর্থিক অবরোধের প্রভাব উল্লেখ করা হয়েছে।
হাভানা শহরে বিদ্যুৎ ঘাটতি বাড়ছে, কারণ মার্কিন সরকার ভেনেজুয়েলা সরকারের তেল সরবরাহ আটক করেছে। দীর্ঘদিনের মিত্র ভেনেজুয়েলা সরকার কিউবায় প্রতিদিন প্রায় ৩৫,০০০ ব্যারেল তেল পাঠাত, তবে ৩ জানুয়ারি নিকোলাস মাদুরোকে লক্ষ্য করে মার্কিন সামরিক বাহিনী তেল শিপ আটক করার পর এই সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
তেলের ঘাটতি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজকে প্রভাবিত করে, ফলে দ্বীপে দিনে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ঘটছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ডায়ালিসিস রোগী এবং পানির পাম্পিং স্টেশনগুলো বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতি উৎসবের অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা ও অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা কঠিন করে তুলেছে।
তেল সংকটের ফলে বিমান জ্বালানির ঘাটতিও বেড়েছে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন কিউবায় তাদের সেবা স্থগিত করেছে, ফলে পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণ কমে গেছে। যুক্তরাজ্যসহ কিছু দেশ অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আগমনে অতিরিক্ত বাধা সৃষ্টি করেছে।
কিউবার সিগার বিশ্বব্যাপী উচ্চমানের হিসেবে পরিচিত, তবে মার্কিন সরকারের দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে এগুলো অবৈধ। প্রতি বছর প্রায় ১,৩০০ অংশগ্রহণকারী, ৭০টি দেশের প্রতিনিধিরা হাবানো উৎসবে সমবেত হয়ে কিউবার তামাক বাগান ও কারখানা পরিদর্শন করে, সিগার স্বাদ গ্রহণ করে।
কিউবায় পর্যটন শিল্প ইতিমধ্যে মার্কিন অবরোধের ফলে সীমিত, তাই উৎসবের আয়োজকরা আশা করেন যে অবরোধের প্রভাব কমে গেলে অনুষ্ঠান পুনরায় নির্ধারণ করা যাবে। তারা নতুন তারিখ নির্ধারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।
আয়োজক কমিটির একটি বিবৃতি অনুযায়ী, “হাবানো উৎসবের অগ্রাধিকার হল অংশগ্রহণকারীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের সর্বোচ্চ অভিজ্ঞতা প্রদান করা। এই উদযাপনটি স্থগিত করা একটি ব্যবস্থা, যা এই অভিজ্ঞতাকে রক্ষা করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।”
ভেনেজুয়েলা সরকারের তেল সরবরাহের বন্ধ হওয়া কিউবার জ্বালানি নিরাপত্তা সংকটকে তীব্রতর করেছে। মার্কিন সরকারের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অবরোধের ফলে কিউবার বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থা উল্লেখ করেছে যে, হাবানো উৎসবের স্থগিত কিউবার পর্যটন আয়কে সরাসরি প্রভাবিত করবে, কারণ এই ইভেন্টটি বহু বিদেশি পর্যটকের জন্য প্রধান আকর্ষণ। একই সঙ্গে, তেল ও জ্বালানি সংকটের ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়েও ক্ষতি হবে।
মার্কিন সরকারের অবরোধের প্রেক্ষাপটে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতি কিউবার অর্থনীতির উপর চাপ বাড়িয়ে চলেছে। যদিও তেল সরবরাহের সরাসরি লক্ষ্য ছিল ভেনেজুয়েলা সরকার, তবে কিউবার জ্বালানি ঘাটতি ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা এই নীতির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
কিউবার সরকার এই সংকট মোকাবেলায় বিকল্প জ্বালানি উৎস অনুসন্ধান এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা আহ্বান করার কথা জানিয়েছে। তবে ভেনেজুয়েলা সরকারের তেল সরবরাহ পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি ঘাটতি অব্যাহত থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
হাবানো উৎসবের পুনরায় নির্ধারণের অপেক্ষায় থাকা অংশগ্রহণকারীরা এবং শিল্প প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উন্নতি এবং তেল সরবরাহের স্বাভাবিকীকরণকে মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখছেন। বর্তমান অবস্থা থেকে দূরত্ব গড়ে তোলার জন্য কিউবা ও তার মিত্র দেশগুলোকে সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।



