আফগানিস্তানের ব্যাটিং কোচ টোবি র্যাডফোর্ড ২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ে দলকে সতর্ক করেছেন যে, শুরুর ওভারে অতিরিক্ত ঝুঁকি নেওয়া ফলস্বরূপ চাপ বাড়ায় এবং জয় অর্জনে বাধা সৃষ্টি করে। নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা এ-এর বিরুদ্ধে পরপর পরাজয়ের পর দলটি গ্রুপ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, তাই এখনই কৌশলগত পরিবর্তন অপরিহার্য।
দুই বছর আগে ২০২৪ সালের টি২০ বিশ্বকাপে আফগানিস্তান সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল, যা দেশের ক্রিকেটের অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত। তবে বর্তমান টুর্নামেন্টে একই স্তরের পারফরম্যান্স বজায় রাখতে পারছে না; প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের হাতে পরাজয় এবং দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা এ-কে শিকড়ে ১৮৮ রানের লক্ষ্য অনুসরণে ব্যর্থতা দলকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা এ-র বিপক্ষে দ্বিতীয় গেমে আফগানিস্তান ১৮৮ রনের লক্ষ্য নিয়ে শিকড়ে ছিল, যেখানে ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ ভাল অবস্থানে ছিলেন এবং দলে আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করছিলেন। গুরবাজের ধারাবাহিকতা ভেঙে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্কোর দ্রুত স্থবির হয়ে যায়, এবং শেষ পর্যন্ত দলটি লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়। গুরবাজের আউট হওয়াই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং আফগানিস্তানকে জয় থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
কোচ র্যাডফোর্ডের মতে, শুরুর ওভারে অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক খেলা না করে রিলেটিভভাবে নিরাপদ পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, “বাটাররা যদি শুরুর দিকে খুব বেশি ঝুঁকি না নেয়, তবে মাঝের ওভারগুলোতে স্বাভাবিকভাবে রেট বাড়িয়ে টার্গেটের দিকে এগোতে পারবে।” এই পদ্ধতি শুধু চাপ কমায় না, বরং ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাস বজায় রাখতেও সহায়তা করে।
প্রশিক্ষণ সেশনে র্যাডফোর্ড দলকে বলেছিলেন, “প্রতিটি শটের মূল্য আছে, তাই শুরুর ওভারে বড় শটের চেয়ে সঠিক লাইন ও লম্বা শটের ওপর জোর দিন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, টার্গেটের দিকে অগ্রসর হতে হলে ব্যাটারদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়াতে হবে। এই নির্দেশনা বিশেষভাবে গুরবাজের মতো শীর্ষ ব্যাটসম্যানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যিনি শুরুর ভাল পারফরম্যান্সের পরেও দ্রুত আউট হয়ে দলের পরিকল্পনা ব্যাহত করেন।
দলটি এখন গ্রুপের বাকি ম্যাচগুলোতে জয় অর্জনের জন্য কঠোর পরিকল্পনা তৈরি করছে। যদি তারা পরবর্তী গেমগুলোতে স্থিতিশীল শট নির্বাচন এবং ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সফল হয়, তবে গ্রুপ থেকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। অন্যদিকে, যদি একই ধরনের ঝুঁকি গ্রহণের পদ্ধতি অব্যাহত থাকে, তবে দলটি টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি বাড়বে।
কোচের নির্দেশনা অনুসরণ করে ব্যাটারদের শুরুর ওভারে সুনির্দিষ্ট শটের ওপর জোর দিতে হবে, যাতে মাঝের ওভারগুলোতে রেট বাড়িয়ে লক্ষ্য পূরণ করা যায়। গুরবাজের মতো শীর্ষ ব্যাটসম্যানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে দলটির সামগ্রিক স্কোরে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আশা করা যায়। এছাড়া, ফিল্ডিং ও বোলিং ইউনিটের সমন্বয়ও জয় নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আফগানিস্তানের টিম ম্যানেজার ও কোচিং স্টাফ এই মুহূর্তে দলের মানসিকতা শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন, যাতে খেলোয়াড়রা চাপের মধ্যে শান্তভাবে খেলতে পারে। তারা বিশ্বাস করে যে, ঝুঁকি কমিয়ে সঠিক শটের ওপর জোর দিলে দলটি গ্রুপ পর্যায়ে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ পাবে।
সারসংক্ষেপে, আফগানিস্তানের টিম এখন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও শট নির্বাচন নিয়ে পুনর্বিবেচনা করছে, যাতে গ্রুপের বাকি ম্যাচগুলোতে জয় অর্জন করে টুর্নামেন্টে অগ্রসর হতে পারে। কোচ র্যাডফোর্ডের নির্দেশনা ও গুরবাজের পারফরম্যান্সের উন্নতি দলকে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আসন্ন গেমগুলোতে যদি আফগানিস্তান শুরুর ওভারে নিরাপদ শটের ওপর জোর দেয় এবং মাঝের ওভারগুলোতে রেট বাড়ায়, তবে তারা গ্রুপ থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা বাড়বে। টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে দলটির পারফরম্যান্স কেমন হবে, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে কোচের কৌশলগত নির্দেশনা অনুসরণ করলে সফলতা অর্জনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।



