17 C
Dhaka
Sunday, February 15, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপি শাসনে মন্ত্রিসভা শপথ অনুষ্ঠান জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হবে

বিএনপি শাসনে মন্ত্রিসভা শপথ অনুষ্ঠান জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হবে

বিএনপি নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার নতুন মন্ত্রিসভা শপথ অনুষ্ঠানকে ঐতিহ্যবহির্ভূত স্থান থেকে সরিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সাউথ প্লাজায় আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনুষ্ঠানটি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে; সংসদ সদস্যদের শপথ সকাল ১০টায় এবং মন্ত্রিসভার শপথ বিকাল ৪টায় নির্ধারিত। এই পরিবর্তনটি সরকারী পক্ষের পছন্দের ফলাফল এবং পূর্বে কখনো না দেখা একটি রীতি‑বিপ্লবের সূচনা নির্দেশ করে।

সদস্যদের শপথের জন্য একই স্থানে সকাল ১০টায় সমাবেশ হবে, যেখানে নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা তাদের দায়িত্ব গ্রহণের শপথ নেবে। মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানটি বিকাল ৪টায় শুরু হবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও রাষ্ট্রমন্ত্রীর শপথ নেওয়া হবে। উভয় অনুষ্ঠানই একসাথে সাউথ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে, যা জাতীয় সংসদ ভবনের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত।

স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে প্রতিটি সরকারের শপথ অনুষ্ঠান সরকারী বাসভবন – বাংলাবহবানে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে এইবারের সিদ্ধান্তের ফলে প্রথমবারের মতো শপথের স্থান পরিবর্তন করা হচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে বাংলাবহবানের দরবার হলকে শপথের প্রধান মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে; এখন তা বদলে জাতীয় সংসদ ভবনের উন্মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে।

সংসদ সদস্যদের শপথের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে সরল; এতে কোনো বিশেষ অতিথি আমন্ত্রণ, ক্যাটারিং বা অতিরিক্ত আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে মন্ত্রিসভা শপথে দেশীয় ও বিদেশী অতিথি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের স্বাগত, খাবার-দাবার এবং বিভিন্ন ধাপের আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা থাকে। তাই এই দুই অনুষ্ঠানের জন্য আলাদা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

সিদ্ধান্তটি শেষ মুহূর্তে নেওয়া হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে পুরো পরিকল্পনা পুনর্গঠন করতে বাধ্য করা হয়েছে। নতুন স্থান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আসনবিন্যাস এবং অতিথি তালিকা ইত্যাদি বিষয়গুলো দ্রুত সমন্বয় করা হচ্ছে। এদিকে, শপথের প্রস্তুতিতে জড়িত কর্মীরা স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সজ্জা দ্রুত সরবরাহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বিএনপি শাসনের এই পদক্ষেপটি সংসদীয় ক্ষমতার গুরুত্বকে তুলে ধরার উদ্দেশ্য বহন করে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাবহবানে অনুষ্ঠিত শপথের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠানটি সরকারকে পার্লামেন্টের কেন্দ্রীয় ভূমিকা জোরদার করার সুযোগ দেবে। ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারও একই মডেল অনুসরণ করতে পারে, যা দেশের শাসন কাঠামোতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারে।

বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিবর্তনকে রাজনৈতিক প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো সরকারকে ঐতিহ্যবহির্ভূত প্রথা থেকে বিচ্যুতির অভিযোগ করে সমালোচনা করেছে, তবে একই সঙ্গে তারা এই পদক্ষেপকে জনগণের কাছে সরকারের স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক মানসিকতা প্রকাশের সুযোগ হিসেবে স্বীকার করেছে।

শপথ অনুষ্ঠানে দেশের উচ্চপদস্থ রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি প্রত্যাশিত। অতিথিদের স্বাগত জানাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে এবং অনুষ্ঠানের সময়সূচি অনুযায়ী যথাযথ প্রোটোকল অনুসরণ করা হবে।

মন্ত্রিসভা শপথের পর সরকারী কার্যক্রমের সূচনা হবে, যেখানে নতুন নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই অনুষ্ঠানটি নতুন সরকারের শাসনকাল শুরু করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments