আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত ট২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ ডি ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা এ নিউজিল্যান্ডকে সাত উইকেটের পার্থক্যে পরাজিত করে সুপার ইটসের দিকে অগ্রসর হয়েছে। দু’দলই ১৭১-৭ স্কোরে শেষ করলেও দক্ষিণ আফ্রিকা এ ১৭৬ রানে লক্ষ্য নির্ধারণ করে, এবং ১৭টি বল বাকি রেখে ১৭৮-৩ স্কোরে জয় নিশ্চিত করেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা এ’র ক্যাপ্টেন আইডেন মার্ক্রাম ৪৪ বলে অটুট ৮৬ রান তৈরি করে, যার মধ্যে আটটি চতুর্থ এবং চারটি ছয়টি অন্তর্ভুক্ত। তিনি বিশেষভাবে নিউজিল্যান্ডের ক্যাপ্টেন মিচেল স্যান্টারের ওপর ছয়টি মারার মাধ্যমে দ্রুত অর্ধশতক পূরণ করেন।
বামহাতের দ্রুতগতি বোলার মারকো জ্যানসেনের ৪ উইকেটের পারফরম্যান্স, ৪০ রান দান, নিউজিল্যান্ডের স্কোরকে ১৭৫/৭-এ সীমাবদ্ধ রাখে। তার গতি এবং পরিবর্তনশীল লাইন দু’দলকে সমানভাবে চ্যালেঞ্জ করে, বিশেষ করে তৃতীয় ওয়াইলে তিনি রাচিন রাভিন্দ্রা এবং ফিন অ্যালেনকে একের পর এক আউট করেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা এ শুরুর ছয় ওভারে ৮৩ রান ও এক উইকেটের সঙ্গে শক্তিশালী সূচনা করে, যা লক্ষ্য রানে পৌঁছানোর জন্য দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তোলে। এই সময়ে দলটি দ্রুত রানের প্রবাহ বজায় রাখে, ফলে পরবর্তী ওভারগুলোতে চাপ কমে যায়।
ডেভিড মিলার ২৪ রান অটুট রেখে শেষ পর্যন্ত জয়ী ছয়টি মারেন, যা চূড়ান্ত স্কোরকে ১৭৮/৩-এ স্থাপন করে। তার এবং মার্ক্রামের ৪৭ রানের অটুট অংশীদারিত্ব দলকে নিরাপদে লক্ষ্য রানে পৌঁছাতে সহায়তা করে।
দক্ষিণ আফ্রিকা এ’র শুরুর ক্ষতি ছিল কুইন্টন ডি কক ২০ রান এবং রায়ান রিকেলটন ২১ রান করে, যাকে ড্যারিল মিচেল গভীর ফিল্ডে ক্যাচ করেন। ডেওয়াল্ড ব্রেভিসও রাচিন রাভিন্দ্রা থেকে ২১ রান করে আউট হন, আর লকি ফারগুসন মার্ক্রামকে ৬৯ রানেই ড্রপ করেন, যা নিউজিল্যান্ডের জন্য অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি করে।
নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে ফিন অ্যালেন ১৭ বলে ৩১ রান করেন, তিনটি চতুর্থ এবং লুংগি নগিদি থেকে একটি ছয়টি মারেন। টিম সিফার্টও জ্যানসেনের ওপর ছয়টি মারার পরপরই ১৩ রানেই আউট হন, যা নিউজিল্যান্ডের শীর্ষ স্কোরারদের উপর চাপ বাড়ায়।
জ্যানসেনের পরবর্তী ওভারে তিনি রাচিন রাভিন্দ্রা (১৩) এবং অ্যালেন (১৩) দুজনকে একের পর এক আউট করেন, যা নিউজিল্যান্ডের স্কোরকে দ্রুত ৬৪/৪-এ নামিয়ে দেয়। কেশব মহারাজের বামহাতের স্পিনে গ্লেন ফিলিপস মাত্র এক রানেই আউট হন, ফলে দলটি আরও পিছিয়ে যায়।
মিচেল এবং মার্ক চ্যাপম্যানের সংযোজিত ৪৮ রান, ৭৪ রানের অংশীদারিত্ব নিউজিল্যান্ডকে পঞ্চম উইকেট পর্যন্ত টিকে রাখতে সাহায্য করে, তবে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য রানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।
গ্রুপ ডি-তে দক্ষিণ আফ্রিকা এ এবং নিউজিল্যান্ড এখনও শীর্ষ দুই স্থানের জন্য প্রিয়দর্শী, আর সংযুক্ত আরব আমিরাত ও আফগানিস্তান বাহ্যিক সুযোগ বজায় রাখে। এই জয় দক্ষিণ আফ্রিকা একে সুপার ইটসের সিট নিশ্চিতের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে, যা টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্যায়ে তাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।



