শনি দিন নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন ওয়েকে ডিজাইনার কেট বাটন তার সর্বশেষ পোশাক সংগ্রহ উপস্থাপন করবেন। এই প্রদর্শনীতে তিনি ফিডুসিয়া এআই এবং আইবিএমের প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি বহুভাষিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্ট যুক্ত করেছেন। অতিথিরা এআইয়ের মাধ্যমে প্রতিটি পোশাকের নাম জানবে এবং ভার্চুয়ালভাবে তা পরিধান করার অভিজ্ঞতা পাবে।
কেট বাটন এবং ফিডুসিয়া এআইর প্রতিষ্ঠাতা গনেশ হরিনাথের সহযোগিতায় আইবিএম ওয়াটসনএক্স ভিত্তিক সিস্টেম গড়ে তোলা হয়েছে। আইবিএম ক্লাউড এবং আইবিএম ক্লাউড অবজেক্ট স্টোরেজের সহায়তায় ডেটা সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে। এই প্রযুক্তিগত কাঠামো সংগ্রহের প্রতিটি আইটেমকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সনাক্ত করে, প্রশ্নের উত্তর দেয় এবং রিয়েল-টাইমে ফটো-রিয়ালিস্টিক ট্রাই‑অন প্রদান করে।
বাটন উল্লেখ করেছেন যে প্রযুক্তি তার সৃষ্টিশীল প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বাস্তব ও অপ্রকৃতির মিশ্রণকে পছন্দ করেন এবং এআইকে ‘সংগ্রহের জগতে প্রবেশের দরজা’ হিসেবে ব্যবহার করেছেন, শুধুমাত্র প্রযুক্তির জন্য নয়। তার মতে, আধুনিক প্রযুক্তি পোশাকের উপস্থাপনাকে বিস্তৃত করে, দর্শকের দৃষ্টিকে আকর্ষণ করে এবং নতুন গল্প গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
এই সিজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল দর্শকের মধ্যে কৌতূহল জাগানো। এআইয়ের মাধ্যমে ভাষা বাধা দূর করে, আন্তর্জাতিক অতিথিরা নিজেদের ভাষায় প্রশ্ন করতে পারে এবং তৎক্ষণাৎ উত্তর পায়। ফলে সংগ্রহের প্রতিটি টুকরা আরও সহজে উপলব্ধি হয় এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা গড়ে ওঠে।
ফিডুসিয়া এআইর দল আইবিএম ওয়াটসনএক্সের ভিজ্যুয়াল এআই লেন্স ব্যবহার করে পোশাকের ছবি বিশ্লেষণ করেছে। লেন্সটি রিয়েল‑টাইমে আইটেম চিহ্নিত করে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রদর্শন করে। ব্যবহারকারী ভয়েস বা টেক্সটের মাধ্যমে যেকোনো ভাষায় প্রশ্ন করতে পারে, এবং সিস্টেম তাৎক্ষণিকভাবে উত্তর দেয়। এছাড়া, ফটো‑রিয়ালিস্টিক ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ট্রাই‑অন প্রযুক্তি ব্যবহারকারীকে ডিজিটালভাবে পোশাক পরিধান করার সুযোগ দেয়।
প্রকল্পের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অংশ ছিল সিস্টেমের সমন্বয় কাজ, মডেল টিউনিং নয়। বিভিন্ন ক্লাউড সেবা, ডেটা স্টোরেজ এবং এআই মডেলকে একসাথে চালু করতে জটিল অর্কেস্ট্রেশন প্রয়োজন হয়। এই সমন্বয় সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় পুরো উপস্থাপনায় মসৃণ ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা নিশ্চিত হয়েছে।
বাটন পূর্বে একই ফিডুসিয়া এআই দলের সঙ্গে গত সিজনে এআই মডেল ব্যবহার করে একটি সংগ্রহ উপস্থাপন করেছিলেন। সেই সময়েও তিনি প্রযুক্তিকে সৃজনশীল প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যবহার করার ধারণা প্রকাশ করেছিলেন। এই ধারাবাহিকতা দেখায় যে তিনি ফ্যাশন ও প্রযুক্তির সংযোগে দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি রাখেন।
ফ্যাশন সপ্তাহের সময় শিল্পের মধ্যে এআই গ্রহণ নিয়ে আলোচনা তীব্রভাবে চলছিল। অনেক ব্র্যান্ড ইতিমধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে এআই ব্যবহার করে উৎপাদন, লজিস্টিক্স এবং গ্রাহক সেবা উন্নত করছে। তবে পাবলিকভাবে এআইকে প্রচার করা ব্র্যান্ডের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, কারণ সম্ভাব্য সুনামগত ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
বাটন উল্লেখ করেন, এআইকে প্রকাশ্যভাবে ব্যবহার করা এখনো কিছু ব্র্যান্ডের জন্য ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হতে পারে, ঠিক যেমন শুরুর দিনগুলোতে বড় ফ্যাশন হাউসগুলো ওয়েবসাইট চালু করার সময় দ্বিধা করত। তখনই ডিজিটাল উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তা স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। একইভাবে, এআইকে সঠিকভাবে সংযুক্ত করলে ভবিষ্যতে ফ্যাশন শিল্পের নতুন মানদণ্ড গড়ে তুলতে পারে।
এই উপস্থাপনা প্রযুক্তি ও ফ্যাশনের সংযোগে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বহুভাষিক এআই এজেন্ট এবং ভার্চুয়াল ট্রাই‑অন সিস্টেমের মাধ্যমে দর্শকরা কেবল পোশাক দেখবে না, বরং তা ‘অনুভব’ করবে। এ ধরনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে ফ্যাশন শোকে আরও ইন্টারেক্টিভ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, কেট বাটনের নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন ওয়েকের এই সংগ্রহে আইবিএমের উন্নত ক্লাউড ও এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি অনন্য ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। প্রযুক্তি এবং সৃজনশীলতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রদর্শনী ফ্যাশন জগতের ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।



