১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাত প্রায় ৮টায় রাজশাহীর মতিহার থানা অধীনে খোঁজাপুর গোরস্থান এলাকায় ৫০ বছর বয়সী মো. মোস্তফা গুলিতে নিহত হন। তিনি নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদে যাচ্ছিলেন যখন অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তার দিকে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছানো প্রথম সাহায্যদাতারা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পেয়ে জরুরি সেবা ডেকে নিয়ে গেছেন।
মো. মোস্তফা দাশমারী এলাকার তইমুর উদ্দিনের পুত্র এবং স্থানীয় একটি ময়দার মিলের কর্মচারী ছিলেন। পরিবার জানায় তিনি সাধারণ জীবনযাপন করতেন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কোনো সংযোগ ছিল না। তার কাজের পরিবেশ ও সামাজিক পরিচয় স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে পরিচিত।
সাক্ষীরা জানান, মোস্তফা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গোরস্থান এলাকায় পৌঁছানোর সময় গুলির শব্দ শোনা যায়। গুলি শোনার সঙ্গে সঙ্গে তারা ঘটনাস্থলে দৌড়ে গিয়ে শিকারের দেহ রক্তে সিক্ত অবস্থায় পেয়েছেন। তৎক্ষণাৎ স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবীরা তাকে রক্তপাত থামাতে চেষ্টা করেন এবং জরুরি সেবার জন্য কল করেন।
মৃতদেহকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত চিকিৎসক মোস্তফার শিরে গুলির আঘাত এবং মাথায় গভীর জখমের কারণে রক্তক্ষরণ ঘটেছে বলে জানিয়ে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন। প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ডান পায়ে গুলির আঘাত এবং মাথার আঘাতই মৃত্যুর প্রধান কারণ।
ঘটনাস্থলে পুলিশ দল তল্লাশি চালিয়ে একটি তাজা গুলি এবং একটি খোসা উদ্ধার করে। প্রমাণের ভিত্তিতে গুলিবিদ্ধের সময় ব্যবহার করা অস্ত্রের ধরন ও দিকনির্দেশনা নির্ণয় করা হবে। এছাড়া, স্থানীয় ক্যামেরা ফুটেজ ও সাক্ষীর বিবরণ সংগ্রহের কাজ চলছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত শিকারের কোনো রাজনৈতিক সংযুক্তি বা নির্দিষ্ট লক্ষ্য পাওয়া যায়নি।
গাজিউর রহমানের বক্তব্যে আরও যোগ করা হয়, “আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্ত করতে বিশেষ অভিযান চালু করেছি।” তিনি জনগণকে অনুরোধ করেন, যদি কোনো সন্দেহজনক তথ্য থাকে তবে তা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের কাছে জানাতে।
পুলিশের বিশেষ দলে গুলিবিদ্ধের সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের শনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তার করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গোরস্থান এলাকার নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পেট্রোল ও নজরদারি চালু করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনায় শোক প্রকাশ করে, মোস্তফার পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। তারা আশা প্রকাশ করে, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিরা ন্যায়বিচার পাবে।
এই মামলায় তদন্ত চলমান থাকায়, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ ভবিষ্যতে নতুন কোনো তথ্য প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে জনসাধারণকে জানাবে।



