19 C
Dhaka
Sunday, February 15, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনফয়েজ আহমদ ফয়েজের কবিতা, রাজনীতি ও বেঁচে থাকার গল্প

ফয়েজ আহমদ ফয়েজের কবিতা, রাজনীতি ও বেঁচে থাকার গল্প

ফয়েজ আহমদ ফয়েজ, ১৯১১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সিয়ালকোটে (যখন এটি ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের অংশ ছিল) জন্মগ্রহণ করেন। উর্দু কবি, সাংবাদিক এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অফিসার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তিনি মার্শালিস্ট মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। তার রচনায় ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক প্রতিবাদ একসঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে, যা আজও পাঠকদের হৃদয় স্পর্শ করে।

ফয়েজের শৈশবের পরিবেশ পারস্যের সুর, আরবী শিক্ষার গম্ভীরতা এবং উর্দুর সমৃদ্ধি দিয়ে গঠিত ছিল। লাহোরের গভার্নমেন্ট কলেজে ভর্তি হওয়ার পর তিনি ইংরেজি রোমান্টিক কবি শেলি ও কীটসের সঙ্গে গালিবের উর্দু গদ্যকে একসাথে পড়ে, যা তার বৌদ্ধিক দিগন্তকে বিস্তৃত করে। এই মিশ্রণই পরবর্তীতে তার কবিতায় ক্লাসিক্যাল ছন্দকে আধুনিক চেতনার সঙ্গে যুক্ত করতে সহায়তা করে।

কবিতার রূপে ফয়েজ কেবল ছন্দের খেলোয়াড় ছিলেন না; তিনি শব্দের গভীরতা ও অর্থের বহুমাত্রিকতা অনুসন্ধানকারী ছিলেন। তার রচনায় গোলাপ ও কোয়ালির প্রতীকী ব্যবহার দেখা যায়, তবে সেগুলোকে তিনি আধুনিক যুগের কষ্ট ও সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করেন। “আজ এক শব্দকে আবার খুঁজে বেড়াই” শিরোনামের কবিতায় তিনি শব্দের অনুসন্ধানকে এক অবিরাম যাত্রা হিসেবে চিত্রিত করেন, যেখানে প্রতিটি বিরতি ও শব্দের নিঃশব্দতা নতুন অর্থের জন্ম দেয়।

১৯৪০-এর দশকে ফয়েজ প্রগতিশীল লেখক আন্দোলনের সক্রিয় সদস্য হন, যা শিল্পকে সামাজিক পরিবর্তনের হাতিয়ার বানাতে চেয়েছিল। তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় সম্পাদকীয় কাজ করেন এবং সামরিক দায়িত্বের পাশাপাশি সাংবাদিকতার মাধ্যমে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পাকিস্তানের নবগঠিত রাষ্ট্রে তার বুদ্ধিবৃত্তিক উপস্থিতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ তিনি স্বাধীনতার পরের সময়ে দেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা গঠনে অবদান রাখেন।

ফয়েজের কবিতা কেবল শিল্পের সীমা অতিক্রম করে, তা রাজনৈতিক প্রতিবাদেরও এক শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে ওঠে। ১৯৫১ সালে রাওয়ালপিন্ডি ষড়যন্ত্র মামলায় তার নাম উঠে আসে; সরকার তাকে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করে। চার বছর জেলখানায় কাটানোর পরও তিনি তার আদর্শে অটল থেকে যান এবং মুক্তির পর আবার লেখালেখি ও সমাজসেবায় ফিরে আসেন।

বন্দিত্বের সময়ও ফয়েজের সৃষ্টিশীলতা থেমে যায়নি; তিনি জেলখানার দেয়ালে কবিতা লিখে নিজের আত্মাকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করেন। তার কবিতায় ব্যক্তিগত ব্যথা, প্রেমের আকাঙ্ক্ষা এবং জাতীয় স্বাধীনতার স্বপ্ন একসঙ্গে মিশে থাকে, যা পাঠকদের মধ্যে গভীর সংবেদনশীলতা জাগায়।

ফয়েজের অবদান শুধুমাত্র উর্দু সাহিত্যে সীমাবদ্ধ নয়; তার কাজ বাংলা, পারস্য ও ইংরেজি ভাষায়ও অনুবাদিত হয়েছে এবং বিভিন্ন শিল্পের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। আজও তার কবিতা চলচ্চিত্র, নাটক ও সঙ্গীতের রূপে পুনরায় রচিত হয়, যা নতুন প্রজন্মকে তার দৃষ্টিভঙ্গি ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।

ফয়েজ আহমদ ফয়েজের জীবন ও রচনা দেখায় কীভাবে শিল্প, রাজনীতি ও ব্যক্তিগত অনুভূতি একত্রে মিলিয়ে একটি শক্তিশালী সামাজিক বার্তা তৈরি করা যায়। তার কবিতার মাধ্যমে তিনি মানবতার সার্বজনীন আকাঙ্ক্ষা ও স্বাধীনতার তৃষ্ণা প্রকাশ করেছেন, যা আজকের সময়েও প্রাসঙ্গিক এবং অনুপ্রেরণার উৎস।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments