বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি (BNP) চেয়ারম্যান তরেক রহমান রবিবার সন্ধ্যায় দুইজন রাজনৈতিক নেতার বাড়ি পরিদর্শন করবেন বলে জানানো হয়েছে। তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসা এবং জাতীয় নাগরিক দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসা দু’টি পৃথক সময়ে দেখবেন। এই সফরটি নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে পারস্পরিক সৌজন্য ও ঐক্যবদ্ধতা বজায় রাখার লক্ষ্যে করা হচ্ছে।
বিএনপি’র প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদা এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, “রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রথমে তরেক রহমান ডা. শফিকুরের বাড়িতে যাবেন, এরপর ৮টায় নাহিদ ইসলামের বাড়িতে গমন করবেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সফরের সময়সূচি পূর্বে নির্ধারিত এবং কোনো পরিবর্তন নেই।
শফিকুরের বাড়িতে পৌঁছানোর পর তরেক রহমানের সঙ্গে একান্তে আলোচনা হবে বলে অনুমান করা যায়, যদিও নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে, নাহিদ ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তিনি জাতীয় নাগরিক দলের সঙ্গে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ভাগ করে নেবেন বলে জানানো হয়েছে। উভয় সফরই পারস্পরিক সমঝোতা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
তরেক রহমানের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক রাজনীতির সূচনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তিনি পূর্বে শনিবার একটি সংবাদ সম্মেলনে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাতে তিনি ফ্যাসিবাদমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের জন্য সকল দলকে একসাথে কাজ করতে বলেছিলেন।
সেই একই সম্মেলনে তিনি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে উদ্ভূত ভুল বোঝাবুঝি দূর করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। “নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে কিংবা একদল আরেক দলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে কখনও কখনও ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হতে পারে,” তিনি বলেন। “এ ধরনের বিরোধ যেন প্রতিশোধ‑প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়, তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে,” তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন।
এই সফরটি রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন সংলাপের দরজা খুলে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। দু’জন নেতার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে তরেক রহমান পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তোলার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, শফিকুর ও নাহিদের দৃষ্টিকোণ থেকে এই সাক্ষাৎটি তাদের পার্টির জন্য একটি ইতিবাচক ইমেজ তৈরি করতে সহায়তা করবে।
জাতীয় নাগরিক দল ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন দল দু’টি মূল বিরোধী গোষ্ঠী, তাই এই ধরনের পারস্পরিক ভিজিট রাজনৈতিক পরিবেশে শান্তি ও সমন্বয়ের বার্তা বহন করে। উভয় দলই দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে একে অপরের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
সারসংক্ষেপে, তরেক রহমানের রবিবারের সফরটি নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সংলাপকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি কেবল দুইজন নেতার ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধতা ও সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া একটি কৌশলগত উদ্যোগ। ভবিষ্যতে এই ধরনের পারস্পরিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে।



