বিএনপি পার্লামেন্টে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করেছে। নতুন মন্ত্রিপরিষদের কাঠামো প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং চারজন উচ্চপদস্থ নেতা টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী পদে বিবেচিত হচ্ছেন। এই পদগুলোর জন্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, মাহদী আমিন, রুহুল কবীর রিজভী ও ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির নাম উঠে এসেছে।
রুহুল কবীর রিজভীকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী পদে প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইসমাইল জবিউল্লাহকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দলীয় চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্র‑বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট) পদে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। আর মাহদী আমিন, যিনি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্রের দায়িত্বে ছিলেন, তাকে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী পদে নামানো হতে পারে।
বিএনপি কয়েক বছর আগে যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত দলগুলোর সমন্বয়ে একটি জাতীয় সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছিল। সেই ঘোষণার পর থেকে নতুন মন্ত্রিপরিষদে যুগপৎ আন্দোলনের বহু নেতা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। ববি হাজ্জাজ, বিএনপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ এবং গণ‑অধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরকে নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রেজা কিবরিয়াকে নামানোর সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় ১২‑দলীয় জোটের প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দারকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা জোটের সমন্বিত স্বার্থকে প্রতিফলিত করবে।
সংবিধান অনুসারে, নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া প্রথমে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে শুরু হবে। শপথ গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি অধিকাংশের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রীকে নিযুক্ত করবেন। প্রধানমন্ত্রী শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রিসভা গঠন শুরু করবেন এবং মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা নির্বাচনে বিজয়ী দলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
বিএনপি নতুন মন্ত্রিপরিষদে টেকনোক্র্যাট কোটার ব্যবহার করে দক্ষতা ও বিশেষজ্ঞতা যুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদে নির্বাচিত নেতাদের প্রোফাইল ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে উপযুক্ত মন্ত্রণালয় নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। এই পদবিন্যাসের মাধ্যমে সরকারকে প্রযুক্তি‑নির্ভর নীতি ও আধুনিক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য প্রকাশ পেয়েছে।
পরবর্তী ধাপে, শপথ গ্রহণের তারিখ নির্ধারণের পর সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের সঙ্গে সঙ্গে নীতি নির্ধারণ, বাজেট প্রণয়ন ও দেশের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই মন্ত্রিপরিষদ গঠন দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন দিকনির্দেশে নিয়ে যাবে।



