টিএ২০ বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে উজ্জ্বল বোলিং দেখিয়ে ২৯ বছর বয়সী পেসার মুজারাবানি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের নাম উজ্জ্বল করেছেন। ওমানের বিপক্ষে ১৬ রানে ৩ উইকেট এবং অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তিনি দু’টি ম্যাচে ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ উপাধি অর্জন করেন। এই ধারাবাহিকতা তাকে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) দরজায় পৌঁছে দেয়, যেখানে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড তার দলে স্থান দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশ্বকাপের এই দুই ম্যাচে মুজারাবানির বোলিং গতি, লাইন এবং দৈর্ঘ্যের নিখুঁত সমন্বয় তাকে ব্যাটসম্যানদের উপর আধিপত্য রাখতে সাহায্য করে। ওমানের ব্যাটসম্যানরা তার প্রথম ওভারেই চাপের মুখে পড়ে, আর অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী শীর্ষ ক্রমে তিনি দ্রুত তিনটি উইকেট নেন, ফলে দলটি দ্রুত রানের চাপ থেকে মুক্তি পায়। দু’টি ম্যাচেই তার ইকোনমিক রেট কম এবং উইকেটের সংখ্যা বেশি হওয়ায় তিনি ম্যাচের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলেছেন।
মুজারাবানির এই পারফরম্যান্সের পর ইসলামাবাদ ইউনাইটেড পিএসএল নিলামে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করে। পূর্বে দলটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফাস্ট বোলার শামার জোসেফকে এক কোটি দশ লাখ পাকিস্তানি রুপিতে অধিগ্রহণ করেছিল, তবে পারস্পরিক সম্মতিতে তার চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। শামারের চুক্তি বাতিলের পর মুজারাবানিকে নতুন পেসার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে পেস বোলিং বিভাগকে আরও শক্তিশালী করা যায়।
ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের ব্যবস্থাপনা এবং মুজারাবানি উভয়ই চুক্তি সংক্রান্ত কোনো পাবলিক বিবৃতি প্রকাশ করতে চাননি, এবং চূড়ান্ত অনুমোদন পিএসএল টেকনিক্যাল কমিটি থেকে পাওয়া যাবে। এই পদক্ষেপটি দলকে দ্রুত বোলিং আক্রমণ পুনর্গঠন করতে সহায়তা করবে, বিশেষ করে টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি পর্যায়ে পেসারদের প্রয়োজনীয়তা বাড়ার কথা বিবেচনা করে।
মুজারাবানি ২০২১ সালে পিএসএলে প্রথমবার অংশগ্রহণ করেন, যখন তিনি ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের শিরোপা জয়ী দলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তাকে লিগের গতি ও চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছে, যা এখন তার আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্সে প্রতিফলিত হচ্ছে। তার বয়স ২৯ বছর, তবে তার শারীরিক ফিটনেস এবং বোলিং গতি তাকে তরুণ বোলারদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সমান করে তুলেছে।
ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের পিএসএল শিডিউল ২৬ মার্চ থেকে শুরু হবে, এবং মুজারাবানির পাশাপাশি জিম্বাবুয়ের আরেকজন খেলোয়াড় সিকান্দার রাজা দলকে প্রতিনিধিত্ব করবেন। সিকান্দার রাজা গত বছর লাহোর কালান্দার্সের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, যা জিম্বাবুয়ের টিমের অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে তুলবে। দু’জনের সমন্বয়ে দলটি পেস বোলিংয়ে ভারসাম্যপূর্ণ আক্রমণ গড়ে তুলতে পারে।
মুজারাবানির বর্তমান ফর্ম জিম্বাবুয়ের পিএসএল ক্যাম্পেইনের জন্য ইতিবাচক সংকেত বহন করে। তার উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা এবং রানের দমন ক্ষমতা দলকে সুপার ইটে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। পিএসএল-এ সুপার ইটের জন্য দলগুলোকে শীর্ষ আট দলে স্থান পেতে হয়, এবং পেসারদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সারসংক্ষেপে, টিএ২০ বিশ্বকাপে মুজারাবানির উজ্জ্বল পারফরম্যান্স তাকে পিএসএল-এ নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে। ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের পেস বোলিং বিভাগকে শক্তিশালী করার এই পদক্ষেপটি দলকে শীর্ষ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুত করছে। ভবিষ্যতে মুজারাবানি কীভাবে তার ফর্ম বজায় রাখবে এবং জিম্বাবুয়ের পিএসএল অভিযানে কী অবদান রাখবে, তা ক্রিকেট প্রেমীদের নজরে থাকবে।



