হেফাজত‑ইসলাম বাংলাদেশি আমীর শা মোহিবুল্লাহ বাবুনগরী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আল্লামা সাজিদুর রহমান আজকের ঘোষণায় ১৩তম সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ও তার জোটের বিশাল জয়কে স্বীকৃতি জানিয়ে অভিনন্দন প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তারা নির্বাচিত সকল সংসদ সদস্যকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন দিকনির্দেশের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।
বিবৃতি অনুযায়ী, ক্ষমতা অর্জন কোনো গৌরবের মাধ্যম নয়; বরং এটি একটি কঠিন দায়িত্বের প্রতিনিধিত্ব করে। শাসকরা যখন এই দায়িত্বকে সঠিকভাবে পালন করবেন, তখনই ন্যায়বিচার ও সমতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে, এটাই হেফাজত‑ইসলামের নেতাদের মূল বক্তব্য।
তারা উল্লেখ করেছেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকার যদি সততা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দেশের পরিচালনা করে, তবে তা সামগ্রিক উন্নয়ন, ন্যায়বিচার এবং সুশাসনের পথে অগ্রগতি ঘটাবে। নতুন সরকারের দায়িত্বে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোকে শক্তিশালী করা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
নেতারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, নতুন সরকারকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইসলামী মূল্যবোধকে সংরক্ষণে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্যকে দৃঢ় করতে সকল রাজনৈতিক মতামতের প্রতি সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখতে হবে এবং কোনো ফ্যাসিস্টি প্রবণতাকে কঠোরভাবে নিন্দা করতে হবে।
তারা আরও উল্লেখ করেছেন, শাসকরা নিজেদেরকে জনগণের সেবা প্রদানকারী হিসেবে দেখতে হবে, শাসক নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে সরকার জনগণের চাহিদা ও প্রত্যাশা পূরণে আরও কার্যকরী হবে।
বিবৃতিতে পোস্ট-ইলেকশন সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার পরিণতি সম্পর্কে সতর্কতা জানানো হয়েছে। নির্বাচনের পর দেখা দেওয়া অশান্তি ও হিংসা কোনো কল্যাণের দিকে নিয়ে যাবে না; বরং তা সরকার, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুতর ক্ষতি সৃষ্টি করবে।
অবশেষে, হেফাজত‑ইসলাম নতুন সরকারকে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতা মোকাবেলায় কঠোর কিন্তু ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। এই ধরনের ব্যবস্থা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনের শাসন বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
সামগ্রিকভাবে, হেফাজত‑ইসলামের এই ঘোষণায় নতুন সরকারের দায়িত্ব, ইসলামী নীতি রক্ষা, জাতীয় ঐক্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতি স্পষ্ট প্রত্যাশা প্রকাশ পেয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হবে।



