কার্ণাটকা স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (KCSA) শনিবার বেঙ্গালুরুর এম. চিন্নাসোয়ামি স্টেডিয়ামের ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে তিনটি স্ট্যান্ডের নামকরণ করে রাহুল দ্রাবিড়, আনিল কুম্বলে এবং শান্তা রাঙ্গাসোয়ামির সম্মান জানায়। এই সিদ্ধান্তটি ক্রিকেটের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে এমন তিনজন ব্যক্তিত্বকে চিরস্থায়ী স্মরণীয় করে তুলবে।
অনুষ্ঠানটি KCSA-র সভাপতি ভেঙ্কটেশ প্রসাদ ও তার কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। স্টেডিয়ামের পুরনো স্মৃতিচারণের সময় রাহুল দ্রাবিড় নিজেকে এই মাঠের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ বলে উল্লেখ করে, এখানে কাটানো সময়ের গৌরব ও হতাশা দুটোই তার ক্যারিয়ারের গঠনমূলক অংশ বলে জানান। তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, KCSA ও ভেঙ্কটেশ প্রসাদের উদ্যোগে তার নামে একটি স্ট্যান্ডের নামকরণ করা তার জন্য গর্বের বিষয়।
দ্রাবিড়ের পরিবারিক পটভূমি নিয়ে কথা বলার সময় তিনি স্মরণ করেন, তার বাবা ক্রিকেটের প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন এবং ছোটবেলায় তাকে বহু ম্যাচে সঙ্গে নিয়ে যেতেন। টেস্ট ও ওয়ানডে উভয় ফরম্যাটে তিনি ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক, ১৬৪ টেস্টে ১৩,২৮৮ রান এবং ৩৪৪ ওয়ানডে ম্যাচে ১০,৮৮৯ রান করেছেন। এই পরিসংখ্যান তাকে ক্রিকেটের সেরা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অন্যান্য দুই নামকরণকৃত স্ট্যান্ডের মধ্যে আনিল কুম্বলে, যাকে ভারতের সর্বোচ্চ স্পিনার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, অন্তর্ভুক্ত। টেস্ট ক্রিকেটে তিনি ৬১৯টি উইকেট এবং ওয়ানডে ফরম্যাটে ৩৩৭টি উইকেট সংগ্রহ করেছেন, যা তাকে দেশের শীর্ষ স্পিনার হিসেবে গর্বিত করে। তার দীর্ঘায়ু ক্যারিয়ার ও শৈলীর জন্য তিনি ক্রিকেটের ইতিহাসে অমলিন স্থান অর্জন করেছেন।
মহিলা ক্রিকেটের পথিকৃৎ শান্তা রাঙ্গাসোয়ামি ১৯৭৬ সালে ভারতের নারী দলের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে ভারত প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়লাভ করে এবং তিনি দেশের প্রথম নারী টেস্ট সেঞ্চুরি রেকর্ড করেন। এছাড়া, BCCI ও ICC থেকে আজীবন সম্মাননা পাওয়া প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে তার নাম ইতিহাসে অমলিন।
KCSA এই নামকরণকে স্টেডিয়ামের ৫০ বছর পূর্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরেছে। তিনজনের অবদানকে সম্মান জানিয়ে স্টেডিয়ামের কাঠামোতে স্থায়ী চিহ্ন রেখে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস তৈরি করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে চিন্নাসোয়ামি স্টেডিয়াম শুধু ক্রিকেটের গৃহ নয়, বরং দেশের ক্রীড়া ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে আরও উজ্জ্বল হবে।
স্টেডিয়ামের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নতুন প্রশিক্ষণ সুবিধা ও আন্তর্জাতিক ম্যাচের আয়োজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তবে নামকরণকৃত স্ট্যান্ডগুলোই মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকবে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন এই তিনজন কিংবদন্তির নামে গর্বের সঙ্গে ম্যাচ উপভোগ করতে পারবে, এবং স্টেডিয়ামের প্রতিটি কোণেই তাদের স্মৃতি জীবন্ত থাকবে।



