17 C
Dhaka
Sunday, February 15, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধগাজীপুর কাশিমপুরে গৃহবধূকে কুপিতে হত্যা, তদন্ত চলমান

গাজীপুর কাশিমপুরে গৃহবধূকে কুপিতে হত্যা, তদন্ত চলমান

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাশিমপুর এলাকায় শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ছয়টায় এক গৃহবধূের গায়ে কুপি আঘাতের ফলে মৃত্যু ঘটেছে। ২৮ বছর বয়সী আজিরন নেছা, যিনি বাবুল মিয়ার তৃতীয় স্ত্রী, হিংসাত্মক আক্রমণের শিকার হন। ঘটনাস্থল রওশন মার্কেটের নিকটবর্তী, যেখানে রাত্রিকালীন অশান্তি দ্রুতই রক্তাক্ত দৃশ্যে রূপান্তরিত হয়।

সকাল ছয়টায় বাবুল মিয়া তার তৃতীয় স্ত্রীকে বাসায় রেখে চা দোকানে যান। আধা ঘন্টার মধ্যে ফিরে এসে তিনি ঘরের ভিতরে রক্তে লালিত আজিরনের দেহ দেখতে পান। দেহটি গৃহের এক কোণে পা গুটিয়ে বসে ছিল, গায়ে কুপির গহ্বর স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল।

আজিরন নেছা কাশিমপুরের স্থানীয় বাসিন্দা, তার বয়স ২৮ বছর এবং তিনি বাবুল মিয়ার তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচিত। তার পূর্বে দুইটি বিবাহিক সম্পর্ক ছিল, যার মধ্যে দ্বিতীয় স্ত্রী ও তৃতীয় স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের কথা জানা যায়।

বাবুল মিয়া, যিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দেহটি দেখার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানিয়ে দেন। তিনি জানান, তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্ত্রীর মধ্যে চলমান বিরোধই এই হিংসা ঘটার মূল কারণ হতে পারে। তবে তিনি নিজে কোনো সরাসরি জড়িতি স্বীকার করেননি।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি পরীক্ষা করে, তা শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। মর্গে দেহের পরীক্ষা চালিয়ে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ ও সময় নির্ধারণের কাজ চলছে।

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তার মতে, কাশিমপুর থানা থেকে এখনো কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্তের দায়িত্বে আছেন থানা দায়িত্বপ্রাপ্ত মোল্লা মো. খালিদ হোসেন, যিনি জানান, প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষী সংগ্রহের কাজ চলমান।

হত্যার পদ্ধতি কুপি ব্যবহার করা, যা স্থানীয় ভাষায় ‘কুপিয়ে হত্যা’ নামে পরিচিত, এবং এই ধরনের হিংসা পূর্বে এই এলাকায় রেকর্ডে নেই। তাই তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করছেন।

বাবুল মিয়ার বিবৃতি অনুযায়ী, তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি ও পারিবারিক দায়বদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ ছিল। এই বিরোধই সম্ভবত হিংসাত্মক ঘটনার দিকে ধাবিত করেছে বলে তিনি অনুমান করেন।

থানা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা মো. খালিদ হোসেন জানান, বর্তমানে কোনো গ্রেপ্তার হয়নি, তবে সন্দেহভাজনদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং তাদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তদন্তের পরবর্তী ধাপে ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও সাক্ষী বিবৃতি সংগ্রহ করা হবে।

আইনি দিক থেকে, মামলাটি গৃহহত্যা ও দেহদেহি অপরাধের অধীনে দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার ফাইল জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সমাজে এই ঘটনা শোকের ছায়া ফেলেছে এবং গৃহহত্যা সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন উভয়ই পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এই মামলায় তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতের রায়ের অপেক্ষা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নতুন কোনো তথ্য প্রকাশিত হলে তা জনসাধারণের জানাতে হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments