শাহবাগের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন সরকারের অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং শীর্ষমহিলা রাজনৈতিক নেতার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করেন।
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিজয়ী দল প্রথমবারের মতো মিডিয়ার সামনে এসে তারেক রহমান জানান, শীর্ষমহিলা রাজনৈতিক নেতা, যিনি বহু মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি, তার প্রত্যর্পণ সম্পূর্ণভাবে আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কোনো হস্তক্ষেপের ইচ্ছা প্রকাশ করেননি।
অর্থনৈতিক দিক থেকে তিনি নতুন সরকারের মুখোমুখি সবচেয়ে বড় সমস্যাকে ভঙ্গুর অর্থনীতি ও পুঁজির সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেন। তদুপরি, ব্যাংকিং খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো, তরলতা সংকট দূর করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক দলীয়করণের শিকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারিত্ব ও সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়াও পরিকল্পনার অংশ।
আঞ্চলিক কূটনীতির ক্ষেত্রে তারেক রহমান উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রথমে বাংলাদেশের উদ্যোগে গঠন হয়েছিল। তাই নতুন সরকার সার্ককে পুনরায় সক্রিয় ও কার্যকর করার দিকে মনোযোগ দেবে। এছাড়া, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ আলোচনার মাধ্যমে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে চায়।
চীন‑বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) সংক্রান্ত তারেকের মন্তব্যে দেখা যায়, চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। তবে কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরের আগে দেশের জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি যোগ করেন, যদি বিআরআই দেশের অর্থনীতির জন্য লাভজনক প্রমাণিত হয়, তবে সরকার তা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে।
নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করেন, “আমরা ইঞ্জিনিয়ারিং করেছি—জনগণকে কনভিন্স করার ইঞ্জিনিয়ারিং। জনগণকে আমাদের পক্ষে আনা—এটাই ছিল আমাদের সাফল্য।” এভাবে তিনি দলীয় জয়কে জনগণের সমর্থনের ফলাফল হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য এবং কেন্দ্রীয় নেতারা। সকল উপস্থিতি একত্রে নতুন সরকারের নীতি দিকনির্দেশনা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর আলোচনা করার সুযোগ তৈরি করে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের এই বিবৃতি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি স্পষ্ট সংকেত দেয় যে শীর্ষমহিলা রাজনৈতিক নেতার প্রত্যর্পণ আইনি কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং দলীয় হস্তক্ষেপের কোনো ইচ্ছা নেই। একই সঙ্গে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ আকর্ষণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা পুনরুজ্জীবনের জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপের ঘোষণা নতুন সরকারের নীতি দিকনির্দেশনা হিসেবে উঠে এসেছে।
এই ঘোষণাগুলো দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথে কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ের সাথে সাথে স্পষ্ট হবে, তবে বর্তমান পর্যায়ে দেখা যায় যে নতুন সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য এবং আইনি শাসনের প্রতি গুরুত্বারোপের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে চায়।



