শেহবাজ শরিফকে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে, যা বাংলাদেশে গৃহীত হবে। এই সম্ভাবনা সম্পর্কে তথ্য জানিয়েছেন বিএনপি শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা, যিনি উল্লেখ করেছেন যে শপথ অনুষ্ঠানটি অন্তর্বর্তী সরকারের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে। শেহবাজ শরিফের পাশাপাশি সার্কভুক্ত দেশগুলোর সরকার প্রধানদেরও আমন্ত্রণের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে, যদিও চূড়ান্ত তালিকা এখনও নির্ধারিত হয়নি।
বিএনপি শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজনের দায়িত্ব বাংলাদেশে গৃহীত অন্তর্বর্তী সরকার বহন করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অতিথি তালিকা ও শপথের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি, ফলে আমন্ত্রণের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সরকারী পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমন্বয় কাজ চলছে।
শপথ অনুষ্ঠানের তারিখ ও সময়সূচি নির্ধারণের প্রক্রিয়া এখনও চলমান, এবং অতিথি তালিকায় কোন কোন দেশ ও নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। অন্তর্বর্তী সরকার এই বিষয়গুলোকে সংবেদনশীলভাবে পরিচালনা করছে, যাতে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করা যায়। বর্তমানে কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি, তাই সব তথ্যই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি প্রধান শাসন দল হিসেবে শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করবে এবং নতুন সরকারের গঠন প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই জয়লাভের ফলে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত-এ-ইসলামি থাকবে, যা নির্বাচনের পরের পর্যায়ে সরকারী নীতি ও সিদ্ধান্তে সমালোচনামূলক ভূমিকা পালন করবে। জামায়াত-এ-ইসলামি নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন জিতেছে এবং এখনো পার্লামেন্টে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে। এই অবস্থান থেকে তারা সরকারকে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সমালোচনা প্রদান করবে।
শেহবাজ শরিফের সম্ভাব্য আমন্ত্রণের ফলে বাংলাদেশ-পরমাণু সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে, বিশেষত যদি তিনি এবং অন্যান্য সার্কভুক্ত দেশের নেতারা শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। এই ধরনের আন্তর্জাতিক উপস্থিতি দেশীয় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে, আমন্ত্রণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সকল প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করা হবে।
অতিথি তালিকা ও শপথের তারিখ চূড়ান্ত না হওয়ায়, সরকারী দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এখনো পরিকল্পনা পর্যায়ে কাজ করছে। শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুসরণে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে। এই প্রস্তুতি শেষ হলে, শপথের সময়সূচি ও উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।
পরবর্তী ধাপে, অন্তর্বর্তী সরকার শপথ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র জারি করবে এবং আন্তর্জাতিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করবে। শপথের পর, নতুন সরকার গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে পার্লামেন্টে কাজ শুরু হবে। এই ধারাবাহিকতা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে।



