সোহাম রকস্টার এন্টারটেইনমেন্ট ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত একটি নোটিশে হিন্দি চলচ্চিত্র ‘দো অর দো পাঁচ’ (১৯৮০) সম্পর্কিত সমস্ত অধিকার নিজের নামে দাবি করে। কোম্পানি উল্লেখ করে যে ছবির নেগেটিভ কপিরাইট, সংশ্লিষ্ট বৌদ্ধিক সম্পত্তি ও ডেরিভেটিভ অধিকারসহ সব রূপে তারা একমাত্র অধিকারী।
এই নোটিশটি আতুল মোহন পরিচালিত “কমপ্লিট সিনেমা” ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয় এবং সরাসরি “সাধারণ জনগণের কাছে” পাঠানো হয়েছে। নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে সোহাম রকস্টার এন্টারটেইনমেন্ট ছবির সকল নেগেটিভ অধিকার ও সংশ্লিষ্ট আইপি অধিকার ধারণ করে।
কোম্পানি দাবি করে যে তারা ছবির একমাত্র ও একচেটিয়া নেগেটিভ কপিরাইট হোল্ডার, যার মধ্যে নেগেটিভ রাইটস, রেপ্রোডাকশন রাইটস এবং অন্যান্য বৌদ্ধিক সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত। এই অধিকারগুলোর মধ্যে ছবির মূল ফিল্মের পাশাপাশি তার সব কপিকরণ ও পুনরুৎপাদন অন্তর্ভুক্ত।
ডেরিভেটিভ অধিকারেও সোহাম রকস্টার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করে। এতে প্রিক্যুয়েল, সিক্যুয়েল, রিমেক এবং সব ভাষায় (দেশীয় ও বিদেশি) পুনর্নির্মাণের অধিকার অন্তর্ভুক্ত। কোম্পানি এই অধিকারগুলোকে এক ছাতার নিচে একত্রিত করে ভবিষ্যতে যে কোনো রূপান্তরকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় রাখবে।
অধিকন্তু, নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে ছবির ভিত্তিতে কমিক বই, টেলিভিশন সিরিয়াল, স্টেজ প্লে, উপন্যাস এবং স্ক্রিপ্টের উপর ভিত্তি করে যে কোনো পণ্য তৈরির অধিকারও তাদেরই। এই সব রূপান্তরকে কোম্পানি একসাথে অন্তর্ভুক্ত করে একটি বিস্তৃত অধিকার কাঠামো গড়ে তুলেছে।
নোটিশে ছবির অন্তর্নিহিত কাজ এবং সহায়ক অধিকারগুলোরও উল্লেখ রয়েছে। এতে রেপ্রোডাকশন রাইটস, সঙ্গীত ও সাউন্ড রেকর্ডিং রাইটস, ডাবিং রাইটস এবং ভবিষ্যতে উদ্ভূত হতে পারে এমন যেকোনো অধিকার অন্তর্ভুক্ত। ফলে ছবির পুরো ইউনিভার্স এবং তার সব ব্যবহারিক ফরম্যাট একসাথে সুরক্ষিত হয়েছে।
কোম্পানি স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে যে কোনো অননুমোদিত কপি, পুনরুৎপাদন, বিতরণ, জনপ্রদর্শন, সম্প্রচার, পাবলিক কমিউনিকেশন, ডিজিটালাইজেশন, অভিযোজন বা ব্যবহারকে কপিরাইট লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে। লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সিভিল ও/অথবা ক্রিমিনাল আইনের অধীনে শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
নোটিশে বিশেষভাবে ব্যক্তিবর্গ, সংস্থা, সম্প্রচারক, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বিতরণকারী এবং প্রদর্শনকারী সকলকে অননুমোদিত ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে আমিতাভ বচ্চন ও শশী কাপুরের প্রধান ভূমিকায় অভিনীত ছবির কোনো অংশ ব্যবহার করা হলে অনুমতি নিতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘দো অর দো পাঁচ’ ১৯৮০ সালে মুক্তি পায় এবং আমিতাভ বচ্চন ও শশী কাপুরের যৌথ অভিনয়ের জন্য তখনকার সময়ে বড় আলোড়ন সৃষ্টি করে। ছবিটি তার সময়ের কমেডি-অ্যাকশন শৈলীর জন্য জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং আজও ক্লাসিক হিসেবে গণ্য হয়।
সম্প্রতি বলিউড হাঙ্গামা জানিয়েছে যে রোহিত শেট্টি তার আসন্ন ‘গোলমাল ৫’ ছবিতে ‘দো অর দো পাঁচ’ থেকে ধারণা গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন। এই প্রকল্পে অজয় দেবগন, অক্ষয় কুমার, আরশাদ ওয়ারসি, তুষার কাপুর, কুনাল কেম্মু এবং শ্রীয়াস তলপাড়ে প্রধান ভূমিকায় থাকবেন।
সোহাম রকস্টার এন্টারটেইনমেন্টের অধিকার দাবি রোহিত শেট্টির পরিকল্পিত রিমেকের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। যদি কোনো রূপান্তর বা অভিযোজনের জন্য অনুমতি না নেওয়া হয়, তবে তা আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে পারে। তাই চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট শিল্পীকে পূর্বে অনুমোদন নিতে হবে।
শিল্পের বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের অধিকার দাবি নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেন। ভবিষ্যতে কোনো রূপান্তর, পুনর্নির্মাণ বা পণ্য তৈরি করার আগে সোহাম রকস্টার এন্টারটেইনমেন্টের লিখিত অনুমতি নেওয়া উচিত। এভাবে কপিরাইট লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমে এবং সৃজনশীল কাজের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হয়।



