19 C
Dhaka
Saturday, February 14, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধশিশু গৃহকর্মীর নির্যাতন মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাফিকুর রহমানের পদত্যাগ, ট্রাইব্যুনাল গঠন...

শিশু গৃহকর্মীর নির্যাতন মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাফিকুর রহমানের পদত্যাগ, ট্রাইব্যুনাল গঠন ও কঠোর শাস্তি দাবি

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাফিকুর রহমানকে গৃহকর্মী শিশুর নির্যাতন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরের দিনই তিনি পদত্যাগ করেন। এই ঘটনা রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করে, বিশেষ করে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের কাছ থেকে দ্রুত ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি উঠে আসে।

শিশু গৃহকর্মী ১১ বছর বয়সী, যাকে সাফিকুরের বাড়িতে সহায়তা কর্মী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল, তাকে গরম খুঁটির ছেঁড়া, ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত এবং শরীরে গাঢ় ক্ষতসহ শারীরিক নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে। তার হাত ও পায়ের হাড় ভেঙে গিয়েছিল এবং বর্তমানে সে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করছে।

রাতারাতি, রাত্রিকালীন সময়ে, উত্তরার সাফিকুরের বাসা থেকে পুলিশ দল গিয়ে তাকে এবং তার স্ত্রী বীথিকে গ্রেপ্তার করে। একই সময়ে রুপালী খাতুন, মোছা এবং সুফিয়া বেগম নামের দুই গৃহকর্মীও অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বলে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের পরের দিন আদালতে হাজির করা হয় এবং তারা কারাগারে স্থানান্তরিত হয়। আদালতে তাদের বিরুদ্ধে গৃহকর্মী শিশুর নির্যাতনের অভিযোগে রায় শোনানো হয়।

সাফিকুরের পদত্যাগের পর, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম মঙ্গলবার মিডিয়াকে একটি বিবৃতি পাঠায়, যেখানে তারা ১১ বছর বয়সী শিশুর ওপর ঘটিত নির্যাতনের প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। ফোরাম উল্লেখ করে, শিশুটির শারীরিক ক্ষত এবং বর্তমান চিকিৎসা অবস্থা সম্পর্কে জানায়।

ফোরাম দাবি করে যে, এই ধরনের শারীরিক নির্যাতন, শিশুকে দাসের মতো ব্যবহার করা এবং শারীরিকভাবে পঙ্গু করা কেবল আইনের লঙ্ঘন নয়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম উদাহরণ। তারা দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিশুর ওপর গরম খুঁটির ছেঁড়া, ভারী বস্তুর আঘাতে হাড় ভেঙে যাওয়া এবং দেহে ক্ষত হওয়া সহ বিভিন্ন আঘাত হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে এবং চিকিৎসা চলছে।

ফোরাম এই ঘটনাকে সমাজের তথাকথিত শিক্ষিত ও প্রভাবশালী স্তরের নৈতিক ও মানবিক অবক্ষয়ের একটি ভয়াবহ চিত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তারা উল্লেখ করে, এমন ঘটনা দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিশুর নিরাপত্তা ও অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলছে।

ফোরাম দাবি করে যে, তদন্ত প্রক্রিয়া রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব থেকে মুক্ত হতে হবে এবং একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পদ্ধতিতে পরিচালিত হতে হবে। তারা উল্লেখ করে, আইনের শাসন নিশ্চিত না হলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হবে।

এছাড়া, ফোরাম সমস্ত ধরনের শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার মামলাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানায়। তারা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আশ্রয়-প্রশ্রয় প্রদানকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানায়।

শিশু গৃহকর্মী বর্তমানে হাসপাতালে রক্ত সঞ্চালন এবং শল্যচিকিৎসা সহ বিভিন্ন চিকিৎসা গ্রহণ করছে। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি ধীরগতিতে হলেও চিকিৎসা দল তার পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

গ্রেপ্তারকৃত অন্যান্য গৃহকর্মী রুপালী খাতুন, মোছা এবং সুফিয়া বেগমকে একই মামলায় অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং তারা এখনো কারাগারে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গৃহকর্মী শিশুর নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষ এখনো পুরো মামলাটির তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং ফোরামের দাবির ভিত্তিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। মামলার পরবর্তী আদালত শোনানির তারিখ ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে।

৯৬/১০০ ৪টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪প্রথম আলোইত্তেফাকBanglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments