যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গুগল, রেডিট, ডিসকর্ড এবং মেটা সহ কয়েকটি প্রযুক্তি কোম্পানিকে শত শত প্রশাসনিক সাবপোনা পাঠিয়ে আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) সমালোচক ও এজেন্টের অবস্থান প্রকাশকারী অনলাইন অ্যাকাউন্টের নাম, ইমেইল, ফোন নম্বর এবং অন্যান্য শনাক্তকারী তথ্য চেয়েছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংস্থার নীতির বিরোধী কণ্ঠস্বরকে চিহ্নিত করা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি অনুসন্ধান করা।
সাবপোনাগুলোতে নির্দিষ্টভাবে অনলাইন ব্যবহারকারীর পরিচয়, যোগাযোগের তথ্য এবং পোস্টের বিবরণ চাওয়া হয়েছে, যেগুলো আইসিই‑এর কাজের সমালোচনা বা এজেন্টের অবস্থান প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত। গুগল, রেডিট, ডিসকর্ড এবং মেটা-কে প্রেরিত এই অনুরোধগুলো কয়েক মাসের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে পাঠানো হয়, এবং কিছু কোম্পানি ইতিমধ্যে নির্দিষ্ট তথ্য সরবরাহে সম্মতি জানিয়েছে।
প্রশাসনিক সাবপোনা হল এমন একটি আইনি আদেশ যা আদালতের ওয়ারেন্টের চেয়ে কম কঠোর এবং সরাসরি DHS দ্বারা জারি করা হয়। এই ধরনের আদেশের মাধ্যমে কোম্পানিগুলোকে তথ্য সরবরাহের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়, তবে ব্যবহারকারীকে জানানো বাধ্যতামূলক নয় যদি না আদালত অন্যথা নির্দেশ করে। ঐতিহাসিকভাবে এসব আদেশ কমই ব্যবহার করা হয় এবং প্রধানত শিশু পাচার বা অন্যান্য গুরুতর অপরাধের তদন্তে সীমাবদ্ধ ছিল।
তবে গত বছর থেকে DHS এই প্রক্রিয়াটিকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে। প্রশাসনিক সাবপোনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে, যা পূর্বে দেখা যায়নি। এই প্রবণতা আইসিই‑এর সমালোচকদের ওপর নজরদারির মাত্রা বৃদ্ধি এবং নাগরিক গোপনীয়তার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ উত্থাপন করেছে।
নাগরিক অধিকার সংস্থা ACLU‑এর একজন সিনিয়র আইনজীবী উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের সাবপোনার ব্যবহার ঘন ঘন এবং দায়বদ্ধতা কমে যাওয়ার একটি নতুন স্তরে পৌঁছেছে। যদিও সরাসরি উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হয়নি, তবে সংস্থার উদ্বেগের মূল বিষয় হল স্বচ্ছতা এবং আইনি পর্যবেক্ষণের অভাব।
প্রতিটি কোম্পানি সাবপোনার প্রতি কীভাবে সাড়া দেবে তা তাদের নিজস্ব নীতি ও আইনি পরামর্শের ওপর নির্ভরশীল। সাধারণত, কোম্পানিগুলোকে তথ্য সরবরাহের আগে ১৪ দিনের সময় দেওয়া হয়, যাতে তারা আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। যদি কোনো কোম্পানি চ্যালেঞ্জ না করে, তবে তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য হস্তান্তর করতে বাধ্য।
গুগল এই ধরনের সরকারি অনুরোধের জন্য একটি স্বতন্ত্র পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চালিয়ে থাকে, যা ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষা এবং আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণের মধ্যে সমতা বজায় রাখে। গুগল জানিয়েছে যে, ব্যবহারকারীকে সাবপোনা প্রাপ্তির বিষয়ে জানানো হয়, যদি না আদালত তা নিষিদ্ধ করে বা বিশেষ পরিস্থিতি থাকে। এছাড়া, গুগল দাবি করে যে, তারা প্রতিটি আইনি অনুরোধের যথার্থতা পরীক্ষা করে এবং অতিরিক্ত বিস্তৃত অনুরোধের বিরুদ্ধে আপত্তি জানায়।
মেটা-ও একই ধরণের অনুরোধের মুখোমুখি হয়েছে, বিশেষ করে পেনসিলভানিয়ার মন্টগোমারি কাউন্টিতে ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষায় আইসিই‑এর কার্যক্রম প্রকাশকারী ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহের জন্য। DHS ১১ সেপ্টেম্বর মেটা-কে এই ব্যবহারকারীদের নাম ও বিবরণ চেয়ে অনুরোধ করে, এবং ৩ অক্টোবর ব্যবহারকারীদেরকে জানানো হয় যে, যদি মেটা ১০ দিনের মধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জের নথি না পায়, তবে তারা তথ্য হস্তান্তর করবে। এই প্রক্রিয়াটি ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও আইনি অধিকার সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
ভবিষ্যতে এই ধরনের সাবপোনার ব্যবহার কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে তা এখনও অনিশ্চিত। যদি অধিক সংখ্যক প্রযুক্তি কোম্পানি তথ্য সরবরাহে সম্মতি জানায়, তবে আইসিই‑এর সমালোচক ও মানবাধিকার সংস্থার ওপর নজরদারি বাড়তে পারে। অন্যদিকে, যদি কোম্পানিগুলো আইনি চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে এই অনুরোধগুলোকে বাধা দেয়, তবে সরকারকে নতুন আইনি কাঠামো তৈরি করতে হতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই, নাগরিক গোপনীয়তা, প্রকাশের স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিতর্কের তীব্রতা বাড়বে।



