রাশিয়ার প্রধান বিরোধী নেতা আলেক্সেি নাভালনি, সাইবেরিয়ার একটি কারাগারে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে ৪৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তার দেহে ডার্ট ফ্রগের বিষ থেকে তৈরি এক বিষ, এপিবাটিডিন, পাওয়া গেছে এবং তা রাশিয়া সরকারের পরিকল্পিত হত্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এপিবাটিডিনের কোনো স্বাভাবিক উৎস নেই এবং নাভালনির দেহে পাওয়া নমুনায় এই বিষের উপস্থিতি ব্যতিক্রমী। যুক্তরাজ্য সরকার এই ফলাফলকে রাশিয়া সরকারের ক্ষমতা, প্রেরণা এবং সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করেছে, যা তাকে এই ধরনের বিষ ব্যবহার করার জন্য একমাত্র সক্ষম সত্তা করে তুলেছে।
মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র সচিব ইয়েভেট কোপার রাশিয়া সরকারের এই পদক্ষেপকে নিন্দা করেন এবং নাভালনির বিধবা ইউলিয়া নাভালনায়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কোপার উল্লেখ করেন, রাশিয়া সরকার নাভালনিকে রাজনৈতিক হুমকি হিসেবে দেখেছিল এবং তার বিরুদ্ধে এমন মারাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া তার ভয়কে প্রকাশ করে।
যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সুইডেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস এবং জার্মানি এই অভিযোগে একমত হয়ে রাশিয়া সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে প্রস্তুত হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, রাশিয়া সরকারের রসায়ন অস্ত্র সংক্রান্ত চুক্তি লঙ্ঘনের বিষয়ে তারা রসায়ন অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা সংস্থা (OPCW)কে অবহিত করেছে।
আলেক্সেি নাভালনি দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার দুর্নীতি বিরোধী ক্যাম্পেইন চালিয়ে আসছেন এবং দেশের সবচেয়ে জোরালো বিরোধী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২০ সালে তিনি নোভিচক নামের একটি স্নায়ু বিষে আক্রান্ত হন, জার্মানিতে চিকিৎসা নেওয়ার পর রাশিয়ায় ফিরে এসে আবার গ্রেফতার হন। তার মৃত্যুর আগে তিনি আর্কটিকের একটি শাস্তি কারাগারে বন্দি ছিলেন।
নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া পূর্বে ধারাবাহিকভাবে দাবি করে আসছেন, তার স্বামী কারাবাসে থাকা অবস্থায় বিষের মাধ্যমে হত্যা হয়। গত সেপ্টেম্বর তিনি দুইটি বিদেশি ল্যাবরেটরিতে চালানো বিশ্লেষণে তার স্বামীকে “হত্যা” করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন, যদিও তিনি নির্দিষ্ট বিষের নাম প্রকাশ করেননি।
এই নতুন অভিযোগ রাশিয়া সরকারের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়নের দিকে নিয়ে যেতে পারে। রাশিয়া সরকার এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি, তবে ভবিষ্যতে রশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে রসায়ন অস্ত্র সংক্রান্ত আলোচনার তীব্রতা বাড়তে পারে।



