কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী আজ ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ২০২৪ সালের ১৩তম সংসদীয় নির্বাচনকে “স্বীকৃত, স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ” বলে মূল্যায়ন করেছে। গোষ্ঠীর চেয়ারপার্সন নানা অ্যাডো ডাঙ্কোআ আকুফো-অ্যাডো এই ফলাফল উপস্থাপন করেন।
অ্যাকুফো-অ্যাডো নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও জুলাই চার্টার রেফারেন্ডামের সুষ্ঠু পরিচালনাকে প্রশংসা করেন, তবে অন্তর্ভুক্তি ও প্রবেশযোগ্যতার ক্ষেত্রে আরও উন্নতির প্রয়োজন উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “The people of Bangladesh have exercised their democratic rights to seek the fulfilment of their aspirations. We encourage them to be magnanimous and united in their shared democratic future,” এবং এ কথা গানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হিসেবে উচ্চারণ করেন।
গোষ্ঠী ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে একটি পোস্ট-ইলেকশন রিভিউ পরিচালনা করতে আহ্বান জানায়, যেখানে পর্যবেক্ষকদের সকল সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই রিভিউটি আন্তর্জাতিক সেরা চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চূড়ান্ত প্রতিবেদন কমনওয়েলথ সেক্রেটারি-জেনারেল শিরলি বটচওয়ে-কে জমা দেওয়া হবে, এরপর তা সরকার, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, কমনওয়েলথের সদস্য রাষ্ট্র এবং সর্বসাধারণের সঙ্গে ভাগ করা হবে।
অ্যাকুফো-অ্যাডো নির্বাচনের সময়কালকে ২০২৪ সালের জুলাই বিদ্রোহের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত করে বিশ্লেষণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে সীমাবদ্ধতা ও সিদ্ধান্তগুলো নির্বাচনের পরিবেশকে প্রভাবিত করেছে।
মিডিয়া কভারেজের ব্যাপকতা ও তার নাগরিকদের তথ্য সরবরাহে ভূমিকা গোষ্ঠী প্রশংসা করেছে। তবে অনলাইন মিথ্যা তথ্য, সাইবার হয়রানি এবং ঘৃণামূলক বক্তব্যের প্রসারকে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন।
মহিলা ও যুবক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে গোষ্ঠী বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। নির্বাচনে কেবল চার শতাংশ মহিলা প্রার্থীই ছিলেন, যার মধ্যে মাত্র সাতজনই নির্বাচিত হয়েছেন। এই সংখ্যা দেশের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে লিঙ্গ বৈষম্যকে নির্দেশ করে।
যুব সক্রিয়তা যদিও দৃশ্যমান, তা প্রায়শই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত প্রভাব ফেলতে পারেনি। গোষ্ঠী এই বিষয়টি ভবিষ্যৎ নির্বাচনে যুবকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
প্রেস কনফারেন্সে গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যরা মিডিয়ার স্বাধীনতা ও তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মিডিয়া স্বাধীনতা অপরিহার্য।
অবশেষে, গোষ্ঠী উল্লেখ করেছে যে নির্বাচনের পর কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন উত্তেজনার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, তবে তা সামগ্রিক শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে ক্ষুণ্ন করেনি। এই ঘটনাগুলোকে দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে।
কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীর এই মূল্যায়ন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা যায়। গোষ্ঠীর সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যৎ নির্বাচন আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বচ্ছ হতে পারে।
এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতিতে গোষ্ঠীর সুপারিশগুলোকে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।



