নাটোরের বাগেরিগ্রাম উপজেলা, ধানাইদাহ গ্রামে আজ সকালবেলা বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে দুইজন আহত হয়েছে। লড়াই চলাকালে কয়েকটি বাড়ি ধ্বংস হয় এবং স্থানীয় পরিবেশে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। উভয় দলই ঘটনাটির দায় একে অপরের ওপর আরোপ করেছে। অপরদিকে, স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সংঘর্ষের পেছনে নির্বাচনের পরবর্তী বিরোধের সূত্র রয়েছে, যা দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে পূর্বে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল। ধানাইদাহ গ্রাম, নাগর ইউনিয়নের অধীনে, পূর্বে একই বিষয় নিয়ে বিরোধের রেকর্ড রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটই আজকের হিংসাত্মক মুখোমুখির ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। এই ধরনের বিরোধ পূর্বে স্থানীয় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায়ও দেখা গিয়েছে, যা সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন বাড়িয়ে তুলেছে।
সকালবেলায় ধানাইদাহ বাজারে উভয় দলের সমর্থকরা একত্রিত হয়ে বিরোধ মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে দু’দলই একই স্থানে উপস্থিত হওয়ায় ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মতবিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে। তীব্র উত্তেজনা দ্রুত শারীরিক সংঘাতে রূপ নেয়। লাঠি ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
দুই দলের সদস্যরা লাঠি, ছুরি ও অন্যান্য ধারালো সামগ্রী দিয়ে একে অপরকে আক্রমণ করে। গুলির বদলে ধারালো অস্ত্রের ব্যবহারই আহতদের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত দুইজনই গুরুতর আঘাত পেয়ে আহত হয়। হিংসা থামাতে প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, উভয় পক্ষের মধ্যে রাগের ঢেউ বাড়তে থাকে।
পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ মো. আবদুস সালাম জানান, আহতদের মধ্যে নাগর ইউনিয়নের জামায়াত-এ-ইসলামি ইউনিটের আমীর হাসিনুর রহমান এবং বিএনপি ইউনিয়ন স্তরের নেতা আশরাফ সরকার অন্তর্ভুক্ত। হাসিনুর রহমানকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। আশরাফ সরকারও স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়েছেন। আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও, চিকিৎসা সংক্রান্ত খরচ ও পুনর্বাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় গ্রামটির কিছু বাড়ি ভাঙা-ফোঁড়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলোর মেরামতের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বিকৃত বাড়িগুলোর মালিকদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে বাগেরিগ্রাম থানা, আর্মি ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা শুরু করেন। পুলিশ দল দ্রুত হস্তক্ষেপ করে হিংসা থামাতে সক্ষম হয়। আর্মি ইউনিটের উপস্থিতি পরিস্থিতি শীতল করতে সহায়তা করে। স্থানীয় স্বশাসনও শান্তি বজায় রাখতে সহযোগিতা করে।
বাগেরিগ্রাম উপজেলায় জামায়াত-এ-ইসলামি সেক্রেটারি মো. আবু বকর সিদ্দিকের মতে, বিএনপি কর্মীরা হঠাৎ হামলা চালিয়ে জামায়াত-এ-ইসলামি সদস্যদের বাড়ি ধ্বংস করেছে। তিনি এই ঘটনাকে অপ্রত্যাশিত ও অননুমোদিত আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ধরনের হিংসা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক শৃঙ্খলা নষ্ট করতে পারে।
বিএনপি ইউনিয়ন সেক্রেটারি মো. রাজু জানান, নাটোর-৪ নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচিত হওয়া এমপি-ইলেক্ট আবদুল আজিজ পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, এমপি-ইলেক্টের হস্তক্ষেপে সংঘর্ষের তীব্রতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, তিনি জানান, এমপি-ইলেক্টের হস্তক্ষেপে উভয় দলের নেতাদের মধ্যে সংলাপের দরজা খুলে যাবে।
এই ধরনের হিংসাত্মক সংঘর্ষ স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। উভয় দলের মধ্যে পারস্পরিক অভিযোগের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে আরও সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। নিরাপত্তা বাহিনীর ত্বরিত হস্তক্ষেপের পরেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শীতল হয়নি, তাই স্থানীয় প্রশাসন অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, এই ঘটনা উভয় দলের



