বিনোদন জগতের দুই প্রখ্যাত স্রষ্টা ইমতিয়াজ আলী এবং একতা কাপুর লাইলা মজনু ছবির বিশাল সাফল্যের পর আবার একসাথে কাজের ঘোষণা দিয়েছেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভ্যালেন্টাইন ডে-তে প্রকাশিত এই খবরটি ভক্তদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। নতুন চলচ্চিত্রের শিরোনাম ‘হীর রঞ্জা’, যা লাইলা মজনু ফ্র্যাঞ্চাইজের দ্বিতীয় অধ্যায় হিসেবে পরিকল্পিত, প্রেমের কিংবদন্তি ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
লাইলা মজনু ২০২২ সালে মুক্তি পেয়ে ধীরে ধীরে কাল্ট স্ট্যাটাস অর্জন করে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান তৈরি করে। ছবির সূক্ষ্ম রোমান্স, গভীর আবেগ এবং আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি দর্শকদের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। এই সাফল্যের পর একতা কাপুর ও ইমতিয়াজ আলীর পুনর্মিলন শিল্প জগতে নতুন প্রত্যাশা জাগিয়েছে।
‘হীর রঞ্জা’কে লাইলা মজনুর পরবর্তী অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে একই প্রেমের থিমকে আধুনিক সময়ের প্রেক্ষাপটে পুনর্গঠন করা হবে। গল্পটি প্রাচীন রোমান্সের ছোঁয়া বজায় রেখে, বর্তমানের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রঙে রাঙানো হবে। ফলে নতুন প্রজন্মের দর্শকরা ঐতিহ্যবাহী প্রেমের মর্মকে সমসাময়িক রূপে অনুভব করতে পারবেন।
প্রযোজনা দল চলচ্চিত্রটিকে একটি কবিতাময় এবং আবেগময় অভিজ্ঞতা হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়। দৃশ্যমান রূপে রোমান্সকে তীব্রভাবে প্রকাশ করার পাশাপাশি, সাউন্ডট্র্যাক ও ভিজ্যুয়াল স্টাইলকে আধুনিকতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি দর্শকদেরকে একটি নতুন প্রেমের জগতে ডুবিয়ে রাখবে, যেখানে হৃদয়ের সুর ও ছন্দের সমন্বয় থাকবে।
শুটিং শিগগিরই শুরু হবে এবং পরিচালক হিসেবে কাজ করবেন সজিদ আলী। প্রযোজনা দায়িত্বে আছেন শোভা কাপুর, একতা কাপুর এবং প্রীতি আলী, যাঁরা পি‑ফিল্মস প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে প্রকল্পটি পরিচালনা করছেন। চলচ্চিত্রের টিম ইতিমধ্যে প্রি‑প্রোডাকশন পর্যায়ে রয়েছে এবং লোকেশন স্কাউটিং ও কাস্টিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
একতা কাপুর প্রকাশ্যে বলছেন, “ইমতিয়াজ ও সজিদের প্রেমকে সত্যিকারের গভীরতা ও সৎভাবে উপস্থাপনের ক্ষমতা অনন্য। লাইলা মজনু সময়ের সাথে সাথে দর্শকের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে, আর ‘হীর রঞ্জা’ এমন একটি গল্প যা সময়ের সীমানা অতিক্রম করবে। আমরা আশা করি এই গল্পটি ভারতীয় ডায়াস্পোরা সহ সকল দর্শকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে।”
ইমতিয়াজ আলীও একই অনুষ্ঠানে মন্তব্য করে জানান, “‘হীর রঞ্জা’ নিজস্ব জগত ও ছন্দে পূর্ণ, যা এই প্রজন্মের প্রেমের ভাষা জানে, তবু চিরন্তন রোমান্সের মূলকে অক্ষুণ্ণ রাখে। একতার সঙ্গে আবার কাজ করা যেন আমাদের ভাগ করা আবেগের ভাষা পুনরায় গড়ে তোলার স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা।”
এই ঘোষণাটি ভ্যালেন্টাইন ডে-তে প্রকাশিত হওয়ায় প্রেমের উৎসবের সঙ্গে বিশেষ সমন্বয় ঘটেছে, যা ভক্তদের মধ্যে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাসের সঞ্চার করেছে। ‘হীর রঞ্জা’কে লাইলা মজনু ফ্র্যাঞ্চাইজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে পূর্বের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করা হবে।
প্রকল্পের আর্থিক ও সৃজনশীল দিক থেকে পি‑ফিল্মসের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করেছে যে, চলচ্চিত্রটি উচ্চমানের প্রোডাকশন মান বজায় রাখবে। শুটিংয়ের সময়কাল, ক্যাস্টের নির্বাচন এবং সঙ্গীতের সুর নির্ধারণে বিশেষ যত্ন নেওয়া হবে, যাতে দর্শকের কাছে একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রেমের অভিজ্ঞতা প্রদান করা যায়।
‘হীর রঞ্জা’র প্রথম ট্রেলার ও পোস্টার প্রকাশের অপেক্ষা এখনই শুরু হয়েছে। ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের জন্য উন্মাদনা প্রকাশ করছেন এবং শুটিংয়ের অগ্রগতি সম্পর্কে আপডেটের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। চলচ্চিত্রের মুক্তির তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে ভ্যালেন্টাইন ডে-র আশেপাশে প্রকাশের সম্ভাবনা নিয়ে অনুমান চলছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘হীর রঞ্জা’ শুধুমাত্র একটি রোমান্স ফিল্ম নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক সংযোগের সেতু হিসেবে কাজ করবে, যা ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক দর্শকদের হৃদয়ে একসাথে প্রেমের সুর বাজাবে। চলচ্চিত্রের সৃষ্টিকর্তারা আশা করছেন, এই কাজটি প্রেমের চিরন্তনতা ও আধুনিকতার মেলবন্ধনকে নতুনভাবে উপস্থাপন করবে।
ভবিষ্যতে আরও তথ্য প্রকাশিত হলে, দর্শক ও মিডিয়া উভয়ই এই প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে জানার জন্য অপেক্ষা করবে। ‘হীর রঞ্জা’র শুটিং শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, চলচ্চিত্রের সৃজনশীল দিক, কাস্টের পারফরম্যান্স এবং সঙ্গীতের গুণগত মান সম্পর্কে আরও বিশদ জানানো হবে। এই নতুন রোমান্সের যাত্রা কবে শেষ হবে, তা এখনো অজানা, তবে ইতিমধ্যে এটি প্রেমের ভক্তদের জন্য একটি বড় প্রত্যাশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।



