সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের দিয়ারবৈদনাথ এলাকায় অবস্থিত অ্যালবার্ট এনার্জি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ১২ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে মুখোশধারী একদল লোক হিংসাত্মকভাবে হামলা করে। পাম্পের তিনটি এডজাস্টমেন্ট মেশিন, ক্যাশ কাউন্টার এবং অন্যান্য সরঞ্জাম ভাঙা‑চূর্ণ করা হয়, ফলে শহরের একমাত্র সিএনজি সরবরাহ কেন্দ্র দু’দিনের জন্য বন্ধ থাকে।
হামলার সময় গোষ্ঠীটি দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে এবং দ্রুতই স্টেশনের মূল অংশগুলোকে নষ্ট করে। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্টেশন কর্মচারীদের মতে, আক্রমণকারী ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল ছিল, যারা মুখে কালো কাপড় বেঁধে অন্ধকারে প্রবেশ করে কাজ সম্পন্ন করে।
হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার পুলিশ দল স্টেশন পরিদর্শন করে, তবে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া না যাওয়ায় তদন্তে অগ্রগতি সীমিত থাকে। সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফিলিং স্টেশনের মালিক জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ও সিরাজগঞ্জ‑৩ আসনের একাধিকবারের মনোনয়ন প্রত্যাশী লুৎফর রহমান দিলু। তিনি উল্লেখ করেন, হামলায় প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং ইতিমধ্যে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “গভীর রাতে মুখে কালো কাপড় বেঁধে কেউ বা কেউ অতর্কিতভাবে হামলা করেছে।”
স্টেশন অপারেটর ইনচার্জ শামীম হোসেনের মতে, হামলাকারীরা পাম্পের ভিতরে প্রবেশ করে মেশিন ও ক্যাশ কাউন্টার ভেঙে ফেলে, ফলে গ্যাস সরবরাহের মৌলিক অবকাঠামো নষ্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন, “মুখোশধারী দল পাম্পে ঢুকে সরঞ্জামগুলোকে ধ্বংস করে, যা পুনরুদ্ধার করতে সময় ও অর্থের প্রয়োজন।”
স্টেশন বন্ধ থাকার ফলে শহরের সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, বাস, ট্রাক ও মাইক্রোবাসসহ শত শত যানবাহন গ্যাসের অভাবে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়। সিরাজগঞ্জ জেলা অটোরিক্সা ও সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম লিটন জানান, “গভীর রাত থেকে স্টেশন বন্ধ থাকায় জেলার বহু গাড়ি গ্যাসের অভাবে থেমে আছে।”
অনেক চালক বিকল্প হিসেবে ৪৫ কিলোমিটার দূরে শাহজাদপুর উপজেলার অন্য ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই অতিরিক্ত যাত্রা সময় ও খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা চালকদের আর্থিক ক্ষতি বাড়িয়ে তুলছে।
হামলার পর পুলিশ স্টেশন পরিদর্শন করে, তবে কোনো লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় তদন্তের অগ্রগতি ধীর। ওসি শহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, “অভিযোগ পেলে তৎক্ষণাৎ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বর্তমানে স্টেশনের পুনরুদ্ধার কাজ চলছে এবং গ্যাস সরবরাহ শীঘ্রই পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ধ্বংসাবশেষ এবং গ্যাস সরবরাহ বন্ধের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি অপরাধমূলক ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য। পুলিশ তদন্ত চলাকালীন সম্ভাব্য অপরাধীদের সনাক্ত করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও ঘটনাটির প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছে। স্টেশন পুনরায় চালু হলে চালক ও যাত্রীদের স্বাভাবিক সেবা পুনরায় নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, সিরাজগঞ্জে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশে স্টেশন পুনর্নির্মাণ ও গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি অপরাধীদের বিচারের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।



