ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট শেষ হওয়ার পর, ঢাকায় ফিরে আসা ভোটারদের বিশাল সংখ্যা রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে জমা হয়। কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার তাগিদে গাড়ি ও নৌকা উভয়েরই চাপ বেড়ে যায়, ফলে ঘাটের পরিবহন ব্যবস্থা তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়। এই পরিস্থিতি দেশের দক্ষিণ‑পশ্চিমাঞ্চল থেকে ঢাকায় ফেরার পথিকদের জন্য বিশেষভাবে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
শুক্রবার বিকেল থেকে বাড়তে থাকা ভিড় শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আরও তীব্রতর হয়। দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছানো যাত্রী ও গাড়ির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, গন্তব্যে পৌঁছানোর সময়ও দীর্ঘায়িত হয়। বিকেল বেলায় ঘাটের আশেপাশে ভিড়ের স্তর স্পষ্টভাবে দেখা যায়, যেখানে পথিকরা একে অপরের পাশে সন্নিহিত হয়ে অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়।
যাত্রীরা জানিয়েছেন, ভিড়ের সুবিধা নিয়ে স্থানীয় পরিবহন সেবাদাতারা স্বাভাবিক ভাড়ার তুলনায় বেশি টাকা আদায় করছেন। রাজবাড়ি থেকে ঢাকায় যাত্রীর মতে, সাধারণ ভাড়া ৬০ টাকা হলেও এখন ১০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে, ফরিদপুর থেকে আসা এক যাত্রী জানান, ৮০ টাকার স্বাভাবিক ভাড়া ২০০ টাকায় বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই অতিরিক্ত চার্জের কোনো তদারকি না থাকায় পথিকদের মধ্যে অসন্তোষের স্রোত দেখা দিচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, শুক্রবার বিকেল থেকে যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করে এবং তা নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত ফেরি চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এই নৌ রুটে মোট ১৪টি ফেরি চলমান, যা পূর্বের তুলনায় বেশি যাত্রীকে দ্রুত পারাপার করতে সহায়তা করছে। অতিরিক্ত ফেরি চালু করার ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমে যাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ফেরির সংখ্যা বাড়লেও, ঘাটে এখনও ভিড়ের মাত্রা উচ্চ থাকে এবং কিছু সময়ে গাড়ি ও নৌকার চলাচল ধীর হয়ে যায়। তবে অতিরিক্ত নৌকা চালু হওয়ায় যাত্রীর গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও ভিড় ব্যবস্থাপনা নিয়ে তদারকি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানো যায়।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, নির্বাচনের পরপরই বৃহৎ পরিসরের যাত্রী চলাচল ও পরিবহন ব্যবস্থার চাপ দেখা যাচ্ছে, যা সরকারকে নির্বাচনী সময়ে ট্রাফিক ও ভাড়া নিয়ন্ত্রণের নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে। ভোটারদের নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যাত্রা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশিত।



