বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান আজ ঢাকা শহরের একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সামনে নির্বাচনের পরের ভাষণ দিয়ে দেশের পুনর্গঠন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি নির্বাচনী বিজয়কে জনগণের, গণতন্ত্রের এবং দেশের স্বাতন্ত্র্যের অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে, নতুন সরকারের দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন।
বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই জয় পুরো বাংলাদেশ ও তার জনগণের, যারা গণতন্ত্রের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছে, তাদের জন্য। তিনি স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং তা দেশের সবার জন্য নতুন সূচনা হিসেবে উপস্থাপন করেন।
তারেক রহমান সব রাজনৈতিক দলকে দেশের স্বার্থে একত্রিত হতে আহ্বান জানান। তিনি দলীয় মতবিরোধ থাকলেও জাতীয় স্বার্থে ঐক্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে, বিভাজনকে দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেন।
এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন যে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াত‑ই‑ইসলাম, ন্যাশনাল কনগ্রেস পার্টি, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, জামায়াত উলেমা‑ই‑ইসলাম এবং গণো অধিকার পরিষদ অন্তর্ভুক্ত। ফলাফল যাই হোক না কেন, তিনি সকল অংশগ্রহণকারীকে অভিনন্দন জানিয়ে দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের পথে একসাথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তারেক রহমানের মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলগুলোই গণতন্ত্রের প্রকৃত আলোকবর্তিকা। সরকার ও বিরোধী উভয়েরই তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে, দেশীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং গণতন্ত্রের কাঠামো দৃঢ় হবে।
নতুন সরকারকে তিনি দুর্বল অর্থনীতি, ক্ষয়প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এবং অবনতি ঘটিয়ে যাওয়া আইনশৃঙ্খলার পরিবেশের মুখোমুখি হিসেবে বর্ণনা করেন, যা পূর্বের কর্তৃত্ববাদী শাসন থেকে অবশিষ্ট। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি ত্বরিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন আরও উল্লেখ করেন যে, এক দশকেরও বেশি সময়ের পর, সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সংসদ ও সরকার পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি এই পুনর্গঠনকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উপস্থাপন করেন।
তারেক রহমানের বক্তব্যে ৩১টি সংস্কারমূলক পয়েন্টের একটি এজেন্ডা উল্লেখ করা হয়েছে, যা নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি হিসেবে ঘোষিত হয়েছিল। তিনি এই এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে অগ্রাধিকার দিতে আহ্বান জানান।
ভাষণের শেষে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করে বলেন, যদি সব দলই দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে এবং জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়, তবে বাংলাদেশ শীঘ্রই স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে অগ্রসর হবে।



