26 C
Dhaka
Saturday, February 14, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধযশোরে ভাড়া বাসে অগ্নিকাণ্ড, একটি পুড়িয়ে যায়, আরেকটি ক্ষতিগ্রস্ত

যশোরে ভাড়া বাসে অগ্নিকাণ্ড, একটি পুড়িয়ে যায়, আরেকটি ক্ষতিগ্রস্ত

শুক্রবার রাত একটায়, যশোর সদর উপজেলায় নওয়াপাড়া ইউনিয়নের বাহাদুরপুর মেহগনিতলা বাসিয়াপাড়া এলাকায় দুইটি ভাড়া বাসে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। স্থানীয় বাস মালিক আবু বক্কর সিদ্দিকী বেলাল জানান, উভয় গাড়ি বিভিন্ন স্কুলকে ভাড়া দিয়ে চলত। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ পরিদর্শক কাজী বাবুল হোসেন তদন্তের দায়িত্বে আছেন।

বসবাসের জন্য ফাঁকা জমিতে দুইটি বাস কয়েক সপ্তাহ ধরে পার্ক করা ছিল। মালিকের মতে, গাড়িগুলো দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে ঐ স্থানে রাখা হয়েছিল। এই সময়ে কোনো ব্যবহারিক কাজ না করে গাড়িগুলো নিস্তব্ধ অবস্থায় ছিল।

রাত দশটার কাছাকাছি, বাসিয়াপাড়া এলাকার কিছু বাসিন্দা অগ্নিকাণ্ডের গন্ধ ও ধোঁয়া লক্ষ্য করে দ্রুত নিকটস্থ থানায় জানায়। জানার পর মালিক নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন, দু’টি বাসের একটিতে শিখা বুদবুদে জ্বলে উঠেছে। তিনি তৎক্ষণাৎ স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসকে ডেকে সাহায্য চেয়েছিলেন।

ফায়ার সার্ভিসের দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে, প্রথমে পানির হোজ ব্যবহার করে আগুন দমন করার চেষ্টা করে। শিখা তীব্র হওয়ায়, দল বালি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই শিখা ধীরে ধীরে নিভে যায়, তবে এক বাস সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গিয়ে ধ্বংস হয়ে যায়।

অন্য বাসটি তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়; গাড়ির কিছু অংশে ধোঁয়া ও জ্বালার চিহ্ন রয়ে যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমান অনুযায়ী, মোট ক্ষতি প্রায় দশ লাখ টাকার সমান। মালিক উল্লেখ করেন, এই ক্ষতির পরিমাণ তার ব্যবসায়িক ক্ষতি বাড়িয়ে দেয়।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো স্পষ্ট সূত্র পাওয়া যায়নি। মালিক জানান, তিনি এখনও জানেন না কে বা কী কারণে গাড়িগুলোতে আগুন লাগেছে। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত কোনো সন্দেহভাজন বা অস্বাভাবিক কার্যকলাপের কথা উল্লেখ করেননি।

পরিদর্শক কাজী বাবুল হোসেন জানান, পুলিশ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে। বর্তমানে জড়িত ব্যক্তিদের সনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তার করার কাজ চলছে। তদন্তে কোনো নির্দিষ্ট সূত্র পাওয়া না গেলেও, সব সম্ভাব্য দিক অনুসন্ধান করা হবে।

মালিকের মতে, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এই রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ফলে তাকে আক্রমণের লক্ষ্য হতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তবে, এই ধারণা এখনো তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর মালিক স্থানীয় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা তিনি প্রকাশ করেছেন।

অগ্নিকাণ্ডের শিকার গাড়িগুলো ভাড়া ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ছিল। একটির সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং অন্যটির আংশিক ক্ষতি মালিকের আয়-ব্যয়ের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। এই ক্ষতি পুনরুদ্ধার করতে অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয় এবং সময়ের প্রয়োজন হবে।

পুলিশের মতে, অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে ফরেনসিক বিশ্লেষণ, সিসিটিভি রেকর্ড এবং স্থানীয় সাক্ষীর বিবৃতি ব্যবহার করা হবে। প্রমাণ সংগ্রহের পর, সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় প্রশাসনও ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হবে।

অগ্নিকাণ্ডের সময় এলাকায় কোনো জনসাধারণের ক্ষতি বা প্রাণহানি রিপোর্ট করা হয়নি। তবে, আশেপাশের বাসিন্দারা অশান্তি ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় সমাজের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছেন, যা তাদের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির ফলাফল। তারা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার মোকাবিলায় সতর্কতা বজায় রাখবে।

অভিযুক্তদের শনাক্তকরণে পুলিশ দল স্থানীয় গ্যাং ও অপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় করছে। সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হলে, আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে।

অগ্নিকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট ক্ষতির পরিমাণ ও প্রভাব বিবেচনা করে, স্থানীয় ব্যবসা সমিতি এই ঘটনার ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি ও সমর্থন চেয়েছে।

বছরের শেষের দিকে যশোরে অনুরূপ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কমে যাওয়া দেখা গিয়েছে, তবে এই ঘটনা আবারও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নির্দেশ করে। স্থানীয় প্রশাসন এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করবে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি, মালিকের ব্যবসা পুনরুদ্ধারের জন্য আর্থিক সহায়তা ও বীমা সুবিধা নিয়ে আলোচনা চালু হতে পারে। সরকারী ও বেসরকারি সংস্থার সহায়তা প্রত্যাশিত।

পরিদর্শক কাজী বাবুল হোসেনের মতে, তদন্ত চলমান এবং শীঘ্রই ফলাফল প্রকাশ করা হবে। তিনি সকল সংশ্লিষ্টকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে, যশোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন ও শক্তিশালীকরণ প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments