শনিবার বিকালে ঢাকা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার ওপর জোর দিয়ে বলেন, কোনো অবৈধ কাজকে সহ্য করা হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, দল, ধর্ম, বর্ণ বা মতের পার্থক্য যাই হোক না কেন, দুর্বলদের ওপর শক্তিশালীদের আক্রমণকে কোনো অজুহাতে গ্রহণ করা যাবে না; ন্যায়পরায়ণতা হবে আদর্শ।
তাঁরেক রহমান দেশের নাগরিকদের ধৈর্য ও সংগ্রামের জন্য প্রশংসা জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ সময়ের বাধা অতিক্রম করে গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হওয়া আপনারা সত্যিকারের নায়ক। তিনি বর্তমানের ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর সংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলার অবস্থা উল্লেখ করে, এ সব চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে দেশকে নতুন দিকনির্দেশে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলে জানান।
বিএনপি চেয়ারপার্সন আরও জানান, স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে প্রায় দশ বছর পর আবার সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো বিরোধী শক্তি যেন দেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে না পারে এবং দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে না পারে, এজন্য সকলের ঐক্য বজায় রাখা জরুরি।
সম্মেলনে উল্লেখ করা হয় যে, এই নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে, যার মধ্যে জামায়াত-এ-ইসলামি, এনসিপি, ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এবং গণঅধিকার পরিষদসহ অন্যান্য দল অন্তর্ভুক্ত। এই ব্যাপক অংশগ্রহণকে তিনি দেশের রাজনৈতিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একই অনুষ্ঠানে তারেক রহমানকে ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং বলেন, তিনি কয়েক দিনের মধ্যে দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন। আলমগীর আরও যোগ করেন, এই নির্বাচন দেখিয়েছে যে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল ও দেশের ১৮ কোটি মানুষ একসাথে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং উদারপন্থী গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত হয়েছে।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তাঁরেক রহমানের এই বক্তব্য এবং আলমগীরের মন্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেশের আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের দিক থেকে এই ঘোষণাগুলি কী প্রভাব ফেলবে, তা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হবে।



