গাজীপুরের টঙ্গী উপজেলার সাতাইশ এলাকায় শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে বারোটা টার দিকে দুটি বিএনপি গোষ্ঠীর মধ্যে দলীয় কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে মারামারি ঘটেছে। এক গোষ্ঠী সরকারী খাস জমিতে স্থাপন করা অফিসে তাদের সাংগঠনিক ও নির্বাচনী কাজ চালাচ্ছিল, অন্য গোষ্ঠী হঠাৎ করে সেখানে হামলা চালায়।
হামলার ফলে অফিসের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল লসকর ও তার সহকর্মীরা অন্তর্ভুক্ত। আহতদের অবস্থা চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে স্থিতিশীল করা হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, টঙ্গী এলাকার সাতাইশে সরকারি খাস জমিতে কয়েকজন বিএনপি নেতা ও কর্মী একটি দলীয় কার্যালয় গঠন করেছিল। তারা এখান থেকে পার্টির সংগঠন ও নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। একই রাতে টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকার বেলাল লসকর ও তার সমর্থকরা ঐ কার্যালয়ে প্রবেশ করে হিংসাত্মক আক্রমণ চালায়।
আক্রমণের সময় মোজাম্মেল লসকর গ্রুপের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষের মধ্যে শারীরিক লড়াইয়ের ফলে মোজাম্মেল লসকরসহ কয়েকজন আহত হন। হামলাকারীরা অফিসের টেবিল, চেয়ার ইত্যাদি ভাঙার অভিযোগ করা হয়েছে।
মোজাম্মেল লসকর দাবি করেন, এই এলাকায় পূর্বে কোনো বিএনপি কার্যালয় ছিল না; তিনি ও তার সহযোগীরা নতুন করে তা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী রাতের অন্ধকারে আক্রমণ চালিয়ে তাকে মারধর করেছে এবং অফিসে ধ্বংসযজ্ঞ করেছে। তিনি ঘটনাটির স্বচ্ছ তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসিরা শাহিন খান জানান, এই ঘটনা দুইটি স্বতন্ত্র বিএনপি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ফল। এক গোষ্ঠী লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে, অন্য গোষ্ঠী আক্রমণ চালিয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, আহতদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। তবে আহতদের মধ্যে কিছু এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
এই ধরনের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের ফলে বিএনপির গঠনমূলক একতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন সময়ে। পার্টির নেতৃত্বের কাছ থেকে এই ধরনের ঘটনা রোধের জন্য কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সমন্বয় না হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও অনুরূপ হিংসাত্মক সংঘর্ষের সম্ভাবনা বাড়তে পারে, যা পার্টির জনমত ও নির্বাচনী শক্তিকে প্রভাবিত করবে।
পুলিশের তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর উপর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, পার্টির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অভ্যন্তরীণ বিরোধ সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপের দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর টঙ্গী এলাকার নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও পরিস্থিতি শীতল করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
বিএনপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে এই সংঘর্ষের পরিণতি পার্টির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সংগঠনগত কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে।



