বগুড়া সদর উপজেলায় শনি সকাল ৮টায় এক তরুণের ছুরিকাঘাতের পর মৃত্যু ঘটেছে। ১৯ বছর বয়সী মো. ফাহিম, যিনি ঢালাই কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন, স্থানীয় আদালতের সামনে ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন।
ফাহিমের সঙ্গে তনয় নামের এক যুবকের পূর্বে শত্রুতা ছিল। তনয় ফাহিমের বোনের সঙ্গে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু ফাহিম তা প্রত্যাখ্যান করেন। এই প্রত্যাখ্যানের পর দুজনের মধ্যে অতীতের মতবিরোধ পুনরায় তীব্র হয়ে ওঠে।
পূর্বে তনয় ফাহিমকে বহুবার হুমকি দিয়েছেন বলে জানা যায়। শেষ পর্যন্ত তনয় ফাহিমের বাড়ি ও আশেপাশের এলাকায় ঘুরে বেড়িয়ে তাকে তাড়া করার চেষ্টা করছিল। শনি সকাল ৮টায় তনয় ফাহিমের শরীরে একাধিক স্থানে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান।
আঘাতপ্রাপ্ত ফাহিমকে স্থানীয় বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা সত্ত্বেও তার অবস্থা স্থিতিশীল ছিল না।
পরবর্তীতে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দুপুর ১২টায় ফাহিমের প্রাণ ত্যাগ করে। তার দেহ হাসপাতালে মর্গে সংরক্ষিত হয়েছে।
পুলিশ পরিদর্শক মাহফুজ ইসলাম জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দেহ পরিবারকে হস্তান্তর করা হবে। বর্তমানে তনয়কে গ্রেফতার করার জন্য অনুসন্ধান অভিযান চালু রয়েছে।
পরিদর্শক মাহফুজের মতে, তনয় ফাহিমের বিরুদ্ধে পূর্বে হুমকি ও শারীরিক হিংসা চালিয়ে আসছিল, যা এই হত্যাকাণ্ডের পটভূমি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তনয়ের বর্তমান অবস্থান অজানা, তবে পুলিশ তার সন্ধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি সাক্ষী সংগ্রহে মনোযোগ দিচ্ছে। ফাহিমের পরিবারকে শোক প্রকাশের পাশাপাশি আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সমাজে হিংসা ও পারিবারিক বিরোধের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



