রালিটজা পেট্রোভা পরিচালিত ‘লাস্ট’ চলচ্চিত্রটি বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ফোরাম প্রোগ্রামে ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিশ্বপ্রদর্শনী পাবে। এই কাজটি তার দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য ফিচার, যা পুরুষ ও নারী দর্শকদের জন্য মানসিক নাটকের নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করবে।
পেট্রোভার প্রথম ফিচার ‘গডলেস’ ২০১৬ সালে লোকার্নো চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্ণ লেপার্ড জয় করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছিল। ‘লাস্ট’ তার পরের বড় পদক্ষেপ হিসেবে, ইউরোপীয় চলচ্চিত্র জগতের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চায়।
চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র লিলিয়ান, একজন পারোল অফিসার, যিনি তার কাজের মধ্যে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। দীর্ঘদিন অনুপস্থিত পিতার মৃত্যুর সংবাদ তাকে তার জন্মস্থলে ফিরে আসতে বাধ্য করে, যেখানে তিনি ব্যক্তিগত ও পেশাগত দু’টি জটিলতা মোকাবেলা করেন।
লিলিয়ানকে অফিসের কাগজপত্র, হোটেল কক্ষ এবং পরিত্যক্ত বাড়িগুলোর মধ্যে ঘুরতে হয়, যেখানে তিনি শূন্যতা, শোক এবং দেহের সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হন। এই যাত্রা তাকে নিয়মিত জীবনের কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন করে, আত্ম-অন্বেষণের পথে নিয়ে যায়।
চলচ্চিত্রে শিবারি, জাপানি দড়ি বন্ধনের একটি রূপ, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লিলিয়ান একটি শিবারি রিগারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে, যেখানে শারীরিক সীমা ও মানসিক দুর্বলতা একসাথে পরীক্ষা করা হয়। এই প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত দুর্বলতার মাধ্যমে অন্তরঙ্গতার নতুন সংজ্ঞা গড়ে তোলে।
‘লাস্ট’ এ স্নেজাঙ্কা মিহায়লোভা লিলিয়ান চরিত্রে অভিনয় করেছেন, আর নিকোলা মুতাফভ, মিহাইল মিলচেভ এবং আলেক্সিস আতমাজভ সহ অন্যান্য অভিনেতারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের পারফরম্যান্স চলচ্চিত্রের মানসিক তীব্রতাকে আরও গভীর করে তুলেছে।
পেট্রোভা উল্লেখ করেন যে, তার নিজের পিতার মৃত্যু তার জীবনে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছিল, যা সাধারণ শোকের বাইরে একটি অনুপস্থিতির অনুভূতি ছিল। তিনি চান এই শূন্যতা এবং তার ফলে সৃষ্ট মানসিক ভারকে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা হোক, যাতে অনুপস্থিত পিতার ছায়া কন্যাদের জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলে তা বোঝা যায়।
‘লাস্ট’ কে মধ্যবয়সের মানসিক নাটক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে চরিত্রের অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও আত্ম-অন্বেষণকে ন্যূনতম শৈলীতে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছবির দৃশ্যমানতা ও সংলাপের সরলতা দর্শকের মনোযোগকে সরাসরি বিষয়বস্তুর দিকে টেনে নিয়ে যায়।
বার্লিনের ফোরাম প্রোগ্রামে এই চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্রেমিকদের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করবে, যেখানে নিয়ন্ত্রণ, শোক এবং মানবিক সংযোগের জটিলতা একসাথে অনুসন্ধান করা হবে। দর্শকরা শিবারির মাধ্যমে প্রকাশিত শারীরিক ও মানসিক সীমারেখা সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পেতে পারেন।
‘লাস্ট’ এর বিশ্বপ্রদর্শনী পেট্রোভার চলচ্চিত্রিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা তার পূর্বের সাফল্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এই কাজটি শৈল্পিক দৃষ্টিকোণ থেকে মানবিক দুর্বলতা ও আত্ম-অন্বেষণের সংমিশ্রণকে তুলে ধরবে, যা দর্শকদের গভীরভাবে স্পর্শ করবে।



