১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল ৭ টার কাছাকাছি বগুড়া সদরের মাটিডালী, বিমানমোড় এলাকায় ১৯ বছর বয়সী ফাহিম হোসেনকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করা হয় এবং শীঘ্রই শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর দুপুর ১২ টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনাটি ফাহিমের ছোট বোনের ওপর দীর্ঘকালীন উত্ত্যক্তের প্রতিবাদে গৃহীত হিংসাত্মক পদক্ষেপের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে জানা গেছে।
ফাহিম বগুড়া সদরের নওদাপাড়া গ্রাম, আব্দুর রশিদের পুত্র; তিনি স্থানীয় একটি কারখানায় কর্মরত এবং ২০২৫ সাল থেকে শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রদল (Chhatra Dal) কমিটিতে সদস্য হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। তার পরিবার জানায়, ফাহিমের বোনের প্রতি প্রতিবেশী তনয় দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্তের আচরণ করে আসছিল এবং তা নিয়ে ফাহিম বহুবার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
প্রায় দেড় বছর আগে ফাহিমের বোন সেতু নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ত্রৈমাসিকের প্রায় তিন মাস আগে তনয় সেতুকে ছুরিকাঘাত করে গায়ে আঘাত করেন; পরিবার তখনই অভিযোগ দায়ের করে, তবে পরে বিষয়টি সমাধান হয়েছে বলে জানায়। এই পূর্বের ঘটনার পরেও তনয় বোনের ওপর উত্ত্যক্তের কাজ চালিয়ে যায়, যা ফাহিমের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সকাল ৭ টা ৩০ মিনিটের দিকে তনয় ফাহিমের পথে বাধা দিয়ে হঠাৎ ছুরি বের করে আক্রমণ করেন এবং দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। আশেপাশের লোকজন ফাহিমকে তৎক্ষণাৎ টিএমএসএস হাসপাতালে নিয়ে যায়; সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয় উন্নত সেবা পাওয়ার জন্য।
চিকিৎসা চলাকালীন ফাহিমের অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায় এবং দুপুর ১২ টার দিকে তিনি প্রাণ হারান। তার মৃত্যু সংবাদ শোনার পর পরিবার ও আত্মীয়স্বজন শোক প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত তদন্তের দাবি জানায়।
ফাহিমের বড় ভাই শাহীন তৎক্ষণাৎ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান ঘটনাটিকে কঠোরভাবে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা হিসেবে তুলে ধরে, সংশ্লিষ্টদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনি পদক্ষেপের দাবি করেন।
ফাহিমের বোনের স্বামী সেতু, যাকে তনয় তিন মাস আগে ছুরিকাঘাত করেছিল, জানান যে এই হত্যাকাণ্ডটি বোনের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদের পরিণতি। তিনি উল্লেখ করেন, তনয় বিয়ের আগে ও পরে উভয় সময়ই বোনকে বিরক্ত করে আসছিল এবং এই ধারাবাহিকতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তিনি দ্রুত বিচার চাইছেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করে, ফাহিমের মৃত্যু সংক্রান্ত মামলা দায়ের করে এবং তনয় ও তার পিতা আব্দুল হান্নানের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত শারীরিক প্রমাণ, সাক্ষীর বিবৃতি এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুসারে তনয়ের অপরাধমূলক দায় নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে তনয়কে গ্রেফতার করার জন্য অনুসন্ধান চালু রয়েছে।
বাংলাদেশের দণ্ডবিধি অনুসারে ছুরিকাঘাতের মাধ্যমে মৃত্যুর ঘটনার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা আজীবন কারাদণ্ড হতে পারে; তাই এই মামলাটি দ্রুত আদালতে উপস্থাপন করে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। ফাহিমের মৃত্যু স্থানীয় সম্প্রদায়কে শোকাহত করেছে এবং সকলের কাছ থেকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ত্বরিত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



