শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামি’র আমির, শনিবার দুপুরে ফেসবুকে পোস্ট করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্বাচনের পর ঘটিত সহিংসতার কঠোর নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের আইনি দায়িত্ব আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলস্বরূপ ১১‑দলীয় জোটের সমর্থক, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বিএনপি‑এর মতের থেকে ভিন্ন অবস্থান গ্রহণকারী কিছু গোষ্ঠী নিরীহ নাগরিক ও ভোটারদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে।
শফিকুর রহমান পোস্টে জোর দিয়ে বলেন, নিরপরাধ ভুক্তভোগীদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি তাদের পাশে দৃঢ় সংহতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই ধরনের সহিংসতা কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের উপায় হতে পারে না এবং তা সম্পূর্ণভাবে নিন্দনীয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি তিনি তীব্র আহ্বান জানান, যাতে ঘটনাগুলোর উপর তৎক্ষণাৎ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত চালিয়ে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হয়। তিনি জোর দেন, দ্রুত এবং দৃশ্যমান আইন প্রয়োগই পরিস্থিতি অবনতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে এবং নাগরিকদের বিকল্প নিরাপত্তা সন্ধানের প্রয়োজনীয়তা দূর করবে।
শফিকুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, প্রতিটি ঘটনার যথাযথ নথিভুক্তিকরণ ও রেকর্ড রাখা অপরিহার্য, যাতে ভবিষ্যতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং দায়িত্বশীলরা সঠিকভাবে দায়বদ্ধ করা যায়। তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাজকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি তাদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সদ্য গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যবহার করা জাতি যদি সহিংসতা, ভয়ভীতি বা প্রতিহিংসার রাজনীতিকে স্থান দেয়, তবে তা দেশের মৌলিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শফিকুর রহমানের মতে, স্বাধীন ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনকে রক্ষা করা সবার দায়িত্ব, আর তা অর্জনের জন্য কোনো ধরনের হিংসা স্বীকার করা যাবে না।
শফিকুর রহমানের পোস্টে জুলাই বিপ্লবের আত্মা এখনও জীবিত রয়েছে—এটি তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন। তিনি দাবি করেন, বিপ্লবের আদর্শে গড়ে ওঠা ন্যায়বিচার, সমতা ও স্বাধীনতা আজকের রাজনৈতিক পরিবেশে অটুট থাকতে হবে।
জামায়াত-এ-ইসলামি ও তার জোটের নির্বাচিত এমপি, প্রার্থী এবং স্থানীয় নেতাদের প্রতি তিনি তৎক্ষণাৎ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে গিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে, সংহতি প্রকাশ করতে এবং প্রমাণ সংগ্রহে সহায়তা করতে আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ভুক্তভোগীদের সহায়তা ছাড়া কোনো রাজনৈতিক গতি সঠিকভাবে চালু করা সম্ভব নয়।
শফিকুর রহমানের বার্তা নতুন সরকারের প্রতি স্পষ্ট: জনগণের ম্যান্ডেট কোনো লাইসেন্স নয়, বরং শর্তযুক্ত আমানত। তিনি বলেন, এই আমানতের মূল শর্ত হল আইন‑শৃঙ্খলা রক্ষা, সকলের জন্য সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা প্রদান।
তিনি আরও যোগ করেন, শর্তযুক্ত এই আমানত পূরণ না হলে সরকারকে জনগণের আস্থা হারাতে হবে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ণ করবে। তাই তিনি জোর দিয়ে বলেন, শাসনের প্রথম পরীক্ষা হল নিজের দল ও কর্মীদের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা, যা সুশাসনের ভিত্তি গড়ে তুলবে।
শফিকুর রহমানের এই প্রকাশনা নির্বাচনের পরবর্তী দিনগুলোতে রাজনৈতিক পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ রাখতে এবং আইনের শাসনকে শক্তিশালী করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুদৃঢ় হবে।
বিষয়টি নিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও নাগরিক সমাজের প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশিত, তবে শফিকুর রহমানের আহ্বান এখনো পর্যন্ত বিস্তৃত সমর্থন পেয়েছে, বিশেষ করে যারা সহিংসতার শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে ইচ্ছুক। ভবিষ্যতে এই ধরনের পোস্ট‑ইলেকশন সংঘাতের পুনরাবৃত্তি রোধে কী ধরনের নীতি গৃহীত হবে, তা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



