ড. আলী রীয়াজ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী পদ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক নোটিশ জমা দেন। তিনি রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে কাজ করার পর এই সিদ্ধান্ত নেন। রীয়াজের পদত্যাগের সময় তিনি তার দায়িত্বের শেষ দিন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন।
বিদায়বার্তায় রীয়াজ জানান, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সীমিত ক্ষমতা দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অবদান রাখতে চেষ্টা করেছেন এবং এই কাজের অংশ হিসেবে এই পদ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় সামান্য অবদান রাখতে পেরে গর্ববোধ করেন এবং সকলের সহযোগিতা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ড. আলী রীয়াজকে গত বছর ১৩ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে পূর্ণ মন্ত্রী বা উপদেষ্টার পদমর্যাদায় নিয়োগ করা হয়। সেই মুহূর্ত থেকে তিনি উপদেষ্টার মর্যাদা, বেতন ভাতা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা গ্রহণ করেন। তার দায়িত্বের আওতায় বিভিন্ন কমিশনের কাজ তদারকি এবং নীতি প্রণয়নে অংশগ্রহণ করা হয়।
একই পদমর্যাদায় আরেকজন বিশেষ সহকারী ড. খলিলুর রহমান ছিলেন। দুজনেই প্রধান উপদেষ্টার নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ নীতি বিষয়গুলোতে সমন্বয় কাজের দায়িত্ব ভাগাভাগি করতেন। এই দুইজনের মধ্যে কাজের ভাগাভাগি এবং সমন্বয় প্রক্রিয়া সরকারী নীতি বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
১১ সেপ্টেম্বর, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে একটি ভাষণ দেন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে ছয়টি কমিশন গঠনের ঘোষণা করেন। সেই সময় সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে ড. শাহদীন মালিকের নাম উল্লেখ করা হয়, তবে পরে ড. আলী রীয়াজকে সেই দায়িত্বে স্থাপন করা হয়। এই পরিবর্তনটি সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার গতি ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে।
প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি ছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, এবং সহ-সভাপতি হিসেবে ড. আলী রীয়াজ দায়িত্ব পালন করেন। ঐকমত্য কমিশন দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মতামত সংগ্রহ এবং সমন্বয় করার কাজ করে, যা গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। রীয়াজের সহ-সভাপতি পদে থাকা সময়ে কমিশনের কার্যক্রমে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ছিল।
রীয়াজের বিদায়বার্তায় তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে সীমিত ক্ষমতা দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন এবং তার কাজের ফলে কিছুটা হলেও দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোতে অবদান রাখতে পেরেছেন। তিনি গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন, এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া তার জন্য গৌরবের বিষয়।
অধিকন্তু, রীয়াজ উল্লেখ করেন যে তিনি এই কাজের সময় বিভিন্ন স্তরের সহযোগিতা পেয়েছেন। সরকারী কর্মকর্তারা, অন্যান্য কমিশনের সদস্য এবং সাধারণ জনগণের সমর্থন তার কাজকে সহজতর করেছে। এই সহযোগিতার ফলে তিনি তার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হন।
ড. আলী রীয়াজের পদত্যাগের ফলে চলমান রাষ্ট্র সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তার অভিজ্ঞতা এবং নীতি দৃষ্টিভঙ্গি এখন নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের হাতে যাবে, যা নীতি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ হবে। সরকারী সূত্র অনুযায়ী, রীয়াজের পরিবর্তে নতুন কোনো বিশেষ সহকারী নিয়োগের পরিকল্পনা চলছে, যা সংশ্লিষ্ট কমিশনের কাজের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।
সারসংক্ষেপে, ড. আলী রীয়াজের পদত্যাগ রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। তার অবদান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন, তবে রীয়াজের নিজের কথায় তিনি গর্বের সঙ্গে এই কাজ শেষ করেছেন এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পেরে সন্তুষ্ট।



