রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় র. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ভারত এ ও পাকিস্তান দলের মধ্যে টি২০ বিশ্বকাপ গ্রুপ এ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, তবে আবহাওয়া পরিস্থিতি ম্যাচের প্রধান উদ্বেগের বিষয়। দু’দলই ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে মাঠে নামবে, আর ভক্তদের উত্তেজনা শীর্ষে। তবে গরম ও আর্দ্রতার সঙ্গে মেঘলা আকাশের ছায়া এই উত্তেজনাকে ম্লান করতে পারে।
কোলম্বোর র. প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম, যা পূর্বে বহু আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আয়োজক, এবারও দুই দেশের ভক্তদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য। হোটেল বুকিং দ্রুত পূর্ণ হচ্ছে, এয়ারফেয়ারও উঁচুতে পৌঁছেছে, যা ম্যাচের গুরুত্বকে আরও তুলে ধরে। তবে এখন সকলের দৃষ্টি মাঠের বদলে আকাশের দিকে ঘুরে গেছে।
মৌসুমী বিশ্লেষকরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের সিস্টেম গঠনের ফলে কোলম্বোতে বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা বাড়ছে। এই নিম্নচাপের প্রভাবের কারণে সন্ধ্যাবেলা মেঘলা আকাশ এবং তীব্র বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগে এই পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া মডেলগুলো বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। বিশেষ করে ম্যাচের আগে এবং টসের সময় বৃষ্টির ঝড় দেখা দিলে খেলা শুরুতে বিলম্ব হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে ডাকওর্থ-লুইস (D/L) পদ্ধতি প্রয়োগের সম্ভাবনা বাড়ে।
বৃষ্টির সম্ভাবনা টসের সময়সূচি পরিবর্তন করতে বাধ্য করতে পারে, ফলে উভয় দলের কৌশলগত পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসবে। টস বিলম্বিত হলে উভয় দলে ক্যাপ্টেনদের প্রস্তুতি সময় কমে যাবে, যা মাঠে সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করতে পারে। তাছাড়া, বৃষ্টির পর মাঠের পিচের গতি ও বাউন্সে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
ডাকওর্থ-লুইস পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে, যদি বৃষ্টি পাঁচ ওভারের কম সময়ের জন্য খেলা বাধাগ্রস্ত করে, তবে উভয় দলই অর্ধেক পয়েন্ট পাবে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী রিজার্ভ ডে নির্ধারিত না থাকায় এই শর্ত প্রয়োগ হবে। ফলে ম্যাচের ফলাফল না থাকলেও টেবিলে পয়েন্ট ভাগ হবে।
কোলম্বোর স্টেডিয়ামের ড্রেনেজ সিস্টেম এবং পূর্ণ গ্রাউন্ড কভার অঞ্চলকে নিয়ে কর্মকর্তারা আত্মবিশ্বাসী। পূর্বের অভিজ্ঞতা দেখায়, তীব্র বৃষ্টির পর এক ঘণ্টার মধ্যে মাঠ পরিষ্কার করা সম্ভব। তাই বৃষ্টির পর দ্রুত খেলা পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বৃষ্টির পর মাটির আর্দ্রতা পিচের আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। আর্দ্র পিচে বোলারদের জন্য অতিরিক্ত ঘূর্ণন ও গতি অর্জন সহজ হতে পারে, আর ব্যাটসম্যানদের জন্য শটের টেকসইতা কমে যেতে পারে। এই ধরনের পরিবর্তন কৌশলগত সমন্বয়কে বাধ্য করবে।
স্টেডিয়াম কর্মকর্তারা বলছেন, ড্রেনেজ ও কভার ব্যবস্থা সর্বোচ্চ মানের, তাই বৃষ্টির পর দ্রুত খেলা চালু করা সম্ভব হবে। তারা অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীও প্রস্তুত রেখেছেন, যাতে কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায়। এই প্রস্তুতি ভক্তদের আশ্বাস দিচ্ছে যে ম্যাচটি সম্ভব হলে সম্পূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
ভক্তদের জন্য কোলম্বোতে ভ্রমণ ও থাকার ব্যবস্থা ইতিমধ্যে শেষ পর্যায়ে, এয়ারলাইন টিকিটের দাম বাড়লেও ভক্তরা তবু আগ্রহী। দুই দেশের সমর্থকরা ঐতিহ্যবাহী খাবার, সঙ্গীত ও উল্লাসের সঙ্গে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হতে প্রস্তুত। এখন তাদের মনোযোগ মাঠের বদলে আকাশের দিকে, যেখানে বৃষ্টির সম্ভাবনা ম্যাচের গতি নির্ধারণ করবে।
যদি বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং পাঁচ ওভারের কম সময়ের জন্য খেলা সম্ভব না হয়, তবে উভয় দলই টেবিলে অর্ধেক পয়েন্ট পাবে এবং পরবর্তী গ্রুপ ম্যাচের প্রস্তুতি নিতে হবে। অন্যথায়, পরিষ্কার আকাশে খেলা চালু হলে, দুই দলই তাদের শক্তি ও কৌশল দিয়ে দর্শকদের আনন্দ দেওয়ার সুযোগ পাবে।



