28 C
Dhaka
Saturday, February 14, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকুষ্টিয়া-মেহেরপুর মহাসড়কে ডাম্প ট্রাক উল্টে ৭ ঘণ্টা বন্ধ

কুষ্টিয়া-মেহেরপুর মহাসড়কে ডাম্প ট্রাক উল্টে ৭ ঘণ্টা বন্ধ

শনি-রাতের প্রায় ৫ টায় কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের আমলা-সাগরখালী সেতুর ওপর একটি নিবন্ধনবিহীন বালি ডাম্প ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়, ফলে সেতু ও সড়ক সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনা ঘটার মুহূর্তে ট্রাকটি বালি বহন করছিল এবং সেতুর রেলিংয়ের ওপর উঠে যাওয়ার পর উল্টে সড়কের উপর সমতলভাবে পড়ে। এই ঘটনার ফলে ট্রাকের চালক ও সহকারী দুজনই আহত হয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়।

ডাম্প ট্রাকের চালক সেলিম আহমেদ, বয়স ৩২, এবং তার সহকারী হৃদয় হোসেন, বয়স ২০, দুজনই গমগমে আঘাত পেয়ে জরুরি সেবার মাধ্যমে হাসপাতালে পৌঁছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা দলের তত্ত্বাবধানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল, তবে গুরুতর আঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্রাকের উল্টে যাওয়ার ফলে সেতু ও তার দু’পাশের সড়ক সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলস্বরূপ, যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী গাড়ি এবং জরুরি সেবার গাড়ি সহ সকল যানবাহন আটকে যায় এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। বিশেষ করে কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরের মধ্যে দৈনন্দিন যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য এই বন্ধটি বড় অসুবিধা সৃষ্টি করে।

সেতুর পাশে নতুন সেতুর নির্মাণ কাজ এখনও চলমান হওয়ায় বিকল্প পথ ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। তাই ট্রাফিক জ্যাম আরও বাড়ে এবং গাড়ি চালকদের জন্য অতিরিক্ত সময় ও জ্বালানি ব্যয় বাড়ে। স্থানীয় বাস স্ট্যান্ডে অপেক্ষমান যাত্রীদের মধ্যে হতাশা ও ক্লান্তি দেখা যায়।

মিরপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পুলিশকে জানায় এবং ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পুলিশ দল দুর্ঘটনা স্থল থেকে উল্টে যাওয়া ট্রাকটি সরিয়ে সড়ক পুনরায় খোলার কাজ শুরু করে। ট্রাকটি সরাতে এবং সড়ক পরিষ্কার করতে প্রায় সাত ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

পুলিশের মতে, ট্রাকটি নিবন্ধনবিহীন হওয়ায় এবং অতিরিক্ত বালির ওজনের কারণে সেতুর রেলিংয়ের ওপর চাপ পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। বর্তমানে ট্রাকের মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে ট্রাফিক লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান।

অনুসন্ধান দল দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ের জন্য ট্রাকের রেকর্ড, রোড ট্রাফিক সিগন্যাল এবং সেতুর কাঠামোগত অবস্থা পরীক্ষা করছে। যদি প্রমাণিত হয় যে ট্রাকের ওজন অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করেছিল, তবে চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে গাড়ি চালানোর অনুমতি বাতিল, জরিমানা এবং কারাদণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে।

মোটর যানবাহন আইন অনুযায়ী নিবন্ধনবিহীন গাড়ি চালানো এবং অনুমোদিত লোডের বেশি বালি বহন করা উভয়ই অপরাধ। সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা অনুযায়ী, এই ধরনের লঙ্ঘনের জন্য জরিমানা, লাইসেন্স বাতিল এবং শাস্তি নির্ধারিত। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ভবিষ্যতে একই রকম লঙ্ঘন রোধে হাইওয়ে পর্যবেক্ষণ বাড়াবে বলে জানিয়েছে।

অধিক তদন্তের পর, কুষ্ঠিয়া মেট্রো পুলিশ ট্রাফিক আদালতে মামলাটি দাখিল করার পরিকল্পনা করছে। আদালতে ট্রাকের মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দুর্ঘটনা থেকে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা হতে পারে।

এই ঘটনার ফলে কুষ্ঠিয়া ও মেহেরপুরের মধ্যে দৈনন্দিন যাতায়াতের উপর বড় প্রভাব পড়েছে এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়ক পুনরায় চালু করার জন্য কাজ করেছে, তবে ভবিষ্যতে অননুমোদিত গাড়ি চলাচল রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments