ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে শনিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ গণভোটের ফলাফল ও আসন্ন সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটে অংশগ্রহণকারী ভোটারদের সংখ্যা সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এক ভাগ বেশি।
ব্রিফিংটি সরকারী নীতি‑নির্ধারণের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে নির্বাচনী প্রক্রিয়া, ভোটের বৈধতা এবং সংবিধান সংশোধনের ধাপগুলো বিশদভাবে আলোচনা করা হয়। উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সরকারী কর্মকর্তা, গবেষক এবং সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধিরা ছিলেন।
আলী রীয়াজের মতে, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দু’টি পৃথক শপথ গ্রহণ করবেন। প্রথম শপথটি জাতীয় সংসদে সদস্য হিসেবে, আর দ্বিতীয় শপথটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নেবে। এই দুই শপথের মাধ্যমে আইনগত ও সাংবিধানিক দিক থেকে দু’টি ভিন্ন দায়িত্বের স্পষ্টতা নিশ্চিত হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংবিধান সংস্কারের পক্ষে গণরায় ইতিমধ্যে গঠিত হয়েছে এবং এই রায়কে জুলাই মাসে সরকারী স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। রীয়াজের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই স্বীকৃতি জনগণের দীর্ঘকালীন অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
সংবিধান সংস্কারের পেছনে ১৬ বছর ধরে চলমান অনাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনআকাঙ্ক্ষার প্রকাশ রীয়াজ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই দীর্ঘকালীন সমস্যার সমাধানই সংবিধান সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য, এবং জনগণের প্রত্যাশা এই সংস্কারকে দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে ধাবিত করছে।
আলী রীয়াজ রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যদি দলগুলো আন্তরিকতা ও কমিটমেন্ট বজায় রাখে, তবে জুলাই মাসে গৃহীত সংবিধান সংস্কার সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। তার মতে, দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণই সংস্কারকে কার্যকরী করতে মূল চাবিকাঠি।
বক্তা আরও আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো অঙ্গীকার অনুযায়ী কাজ করলে সংস্কার প্রক্রিয়া দ্রুত অগ্রসর হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে সহযোগিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধি পেলে সংবিধান সংশোধনের ধাপগুলো নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের গঠন ও সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে রীয়াজ বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, পরিষদে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেবে, যাতে বহুমুখী দৃষ্টিকোণ থেকে সংস্কার কাজ করা যায়।
প্রস্তাবিত সংস্কার প্যাকেজে কয়েকটি মূল ধারা অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যার মধ্যে স্বাধীন বিচারবিভাগের শক্তিশালীকরণ, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং দুর্নীতি বিরোধী ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্য। রীয়াজের মতে, এই ধারা গুলো দেশের শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করবে।
আলোচনার শেষে রীয়াজ উল্লেখ করেন, সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য সরকার ইতিমধ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংশোধনী প্রস্তাবনা সংসদে উপস্থাপন, সংশোধনী কমিটি গঠন এবং জনমত সংগ্রহের ধাপগুলো পরপর সম্পন্ন হবে।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত বিশ্লেষকরা রীয়াজের মন্তব্যকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে গ্রহণ করেন এবং উল্লেখ করেন, ভোটের সংখ্যা ও জনমত ভিত্তিক এই সংস্কার প্রক্রিয়া দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। তবে তারা জোর দেন, বাস্তবায়নের পথে রাজনৈতিক ঐক্য ও আইনগত কাঠামোর দৃঢ়তা অপরিহার্য।
সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে রীয়াজের দল সরকারকে আহ্বান জানায়, সংশোধনী প্রস্তাবনা দ্রুত সংসদে উপস্থাপন করে আইনগত অনুমোদন প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে। তিনি শেষ করে বলেন, জনগণের আস্থা পুনর্গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদী শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য এই সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।



