বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ গণভোটের ফলাফল উপস্থাপন করেন। তিনি জানিয়ে দেন যে, জনগণ সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সংস্কারকে সমর্থন করেছে এবং ফলাফল স্পষ্টভাবে তা প্রকাশ করে।
রীয়াজের বক্তব্য অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে মোট ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ জন ভোটার অংশগ্রহণ করেছেন, যা মোট নির্বাচিত ভোটের প্রায় ৬০.৮৪ শতাংশ। এর মধ্যে ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, যা কাস্ট হওয়া মোট ভোটের ৬৮.০৬ শতাংশ গঠন করে। ‘না’ ভোটের সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬, যা প্রায় ৩১ শতাংশ।
অধ্যাপক রীয়াজ জোর দিয়ে বলেন, জনগণ আর পুরোনো বন্দোবস্তে ফিরে যেতে চায় না এবং সংস্কারকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ভোটের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছা স্পষ্ট হয়েছে যে, দেশের উন্নয়ন ও শাসনব্যবস্থার আধুনিকীকরণে তারা সমর্থন প্রদান করেছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ভোটের বৈধতা নিশ্চিত করতে সমস্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়েছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকা আপডেট করা হয়েছে এবং ভোটগ্রহণের সময় কোনো উল্লেখযোগ্য ত্রুটি রিপোর্ট করা যায়নি।
বিপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কিছু রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা ফলাফল প্রকাশের পর প্রশ্ন তুলেছেন এবং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা সম্পর্কে আরও তথ্যের দাবি জানিয়েছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে সরকার ও নির্বাচনী সংস্থার মধ্যে আলোচনার বিষয় হতে পারে।
গণভোটের ফলাফল সরকারকে সংস্কার পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমর্থন প্রদান করেছে। সরকার ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নীতি প্রণয়ন ও আইনসভার অনুমোদনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার কথা জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের সরাসরি গণভোট দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে, যদি ফলাফলকে যথাযথভাবে কার্যকর করা হয়। তবে তারা সতর্ক করেন, বাস্তবায়ন পর্যায়ে প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ ও জনসাধারণের প্রত্যাশা পূরণে সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
সামাজিক মিডিয়া ও জনমত গোষ্ঠীর প্রতিক্রিয়া বেশ ইতিবাচক দেখা গেছে। ভোটের পরে বিভিন্ন শহরে ছোট ছোট সমাবেশে মানুষ ‘সংস্কারকে সমর্থন’ স্লোগান দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছে। কিছু এলাকায় ভোটের ফলাফল নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে সংস্কার সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন, সংশ্লিষ্ট সংস্থার গঠন ও তহবিল বরাদ্দ। এই প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।
এ পর্যন্ত, সংস্কার প্রকল্পের মূল লক্ষ্যগুলো হল প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, দুর্নীতি হ্রাস এবং জনসেবা উন্নয়ন। ভোটের মাধ্যমে প্রাপ্ত ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা এই লক্ষ্যগুলোর প্রতি জনগণের উচ্চ প্রত্যাশা নির্দেশ করে।
গণভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি আনবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। যদি সরকার এই ম্যান্ডেটকে যথাযথভাবে ব্যবহার করে, তবে আগামী কয়েক বছরে নীতি পরিবর্তন ও কাঠামোগত সংস্কার দ্রুত অগ্রসর হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, আলী রীয়াজের বক্তব্য এবং নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে অধিকাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কারকে অনুমোদন করেছেন। এই ফলাফল সরকারকে সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য শক্তিশালী জনসমর্থন প্রদান করেছে, যদিও বিরোধী দলের কাছ থেকে কিছু প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।



