ইলেকশন কমিশন (ইসিসি) রাত্রিকালীন গেজেট প্রকাশ করে জানায় যে, 13তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে মোট ২৯৭ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। গেজেটটি সীনিয়র সেক্রেটারি আকতার আহমেদ রাত্রে প্রকাশের দায়িত্বে ছিলেন। এতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নাম, পিতার নাম এবং বাসস্থানের ঠিকানা সহ অন্যান্য মৌলিক তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রকাশিত গেজেটের ভিত্তিতে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশের আইনসভা কার্যক্রমের পুনরায় শুরু নির্দেশ করবে। শপথের নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি, তবে ইসিসি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলও গেজেটের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। ভোটদাতা ৪৮,২৬৬,৬৬০ জন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, আর ২২,০৭১,৭২৬ জন বিরোধী ভোট রেখেছেন। অবৈধ ভোটের সংখ্যা ৭,৪২২,৬৩৭ এ রেকর্ড হয়েছে।
ভোটদান ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ২৯৯টি এলাকায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। একটিতে ভোটগ্রহণ হয়নি, ফলে সেই এলাকা থেকে কোনো ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি। ইসিসি এখন পর্যন্ত ২৯৭টি আসনের ফলাফল গেজেটের মাধ্যমে জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম-২ এবং চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত রাখা হয়েছে। আদালত এই দুইটি আসনের ফলাফল নিয়ে চলমান আইনি চ্যালেঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে রায় প্রদান করেছে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট ফলাফল এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
শেরপুর-৩ আসনে ভোটদান স্থগিত করা হয়েছে, কারণ জামাতের প্রার্থী মৃত্যুবরণ করেছেন। প্রার্থীর অকাল মৃত্যুর ফলে নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণের তারিখ পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে।
গেজেটের প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ইসিসি উল্লেখ করেছে যে, শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন করা হবে, যাতে সংসদীয় কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। নতুন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণের পরই সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পিতার নাম ও ঠিকানার পাশাপাশি তাদের নির্বাচনী এলাকার সুনির্দিষ্ট বিবরণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই তথ্যগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নির্বাচনী রেফারেন্সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড হিসেবে কাজ করবে।
ইসিসি গেজেটের মাধ্যমে গণভোটের ফলাফলও প্রকাশ করে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের বর্তমান অবস্থার একটি স্পষ্ট চিত্র উপস্থাপন করেছে। প্রস্তাবের পক্ষে ভোটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা ভোটদাতাদের সমর্থনকে প্রতিফলিত করে।
উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের ফলে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল নিয়ে অতিরিক্ত আইনি প্রক্রিয়া চালু হবে, যা শেষ পর্যন্ত ফলাফল চূড়ান্ত করার আগে সময়সীমা বাড়িয়ে দিতে পারে। এই প্রক্রিয়ার ফলাফল নির্বাচনের সামগ্রিক বৈধতা ও স্বচ্ছতায় প্রভাব ফেলবে।
শেরপুর-৩ আসনের ভোটদান পুনরায় নির্ধারণের জন্য ইসিসি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি নতুন তারিখ নির্ধারণের পরিকল্পনা করছে। এই ব্যবস্থা প্রার্থীর অকাল মৃত্যুর পর নির্বাচনের ন্যায্যতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
সংক্ষেপে, গেজেটের প্রকাশের মাধ্যমে ২৯৭টি আসনের ফলাফল নিশ্চিত হয়েছে, শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে, এবং চট্টগ্রাম ও শেরপুরের কিছু আসনে আইনি ও প্রক্রিয়াগত বিষয়ের কারণে ফলাফল স্থগিত রয়েছে। দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর পরবর্তী ধাপগুলো এই গেজেটের তথ্যের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।



