26 C
Dhaka
Saturday, February 14, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনওগাঁর ৬টি আসনে ২০ প্রার্থী জামানত হারালেন, ৮% ভোট না পেয়ে

নওগাঁর ৬টি আসনে ২০ প্রার্থী জামানত হারালেন, ৮% ভোট না পেয়ে

নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুসারে, কোনো প্রার্থী যদি তার নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটের এক-অষ্টাংশের কম পায়, তবে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনে এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ ২০ জন প্রার্থীর জমা ৫০,০০০ টাকায় কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

নওগাঁ-১ (পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুর) আসনে মোট পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, যার মধ্যে তিনজনের ভোট ৮% সীমা অতিক্রম করতে পারেনি। স্বাধীন প্রার্থী ডা. ছালেক চৌধুরী মোট ১৮,০৮৮ ভোট পেয়ে ১.৯% ভোটের নিচে ছিলেন। জাতীয় পার্টির আকবর আলী ৪,২৪৩ ভোটে ১%‑এর কাছাকাছি পৌঁছালেন, আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির মো. আব্দুল হক শাহ ৯,০৫৮ ভোটে ১.৯% পেয়েছেন। ওই আসনের ১৬৬টি কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৭৪,০৬৫, যার মধ্যে ৩,৬৭,৫১১ ভোট প্রদান করা হয়েছে। এই তিন প্রার্থী ৮% ভোটের মানদণ্ডে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামুইরহাট) আসনে তিনজন প্রার্থী লড়াই করেছেন, যার মধ্যে একজনের ভোট ৮% সীমা অতিক্রম করতে পারেনি। আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মতিবুল ইসলাম ঈগল প্রতীকে ২,৫৮০ ভোট পেয়ে ১.১% ভোট অর্জন করেছেন। এই আসনের ১২৪টি কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৭২,৪৩৬, যার মধ্যে ২,৮৬,০৭০ ভোট প্রদান করা হয়েছে। ভোটের অনুপাতে না পৌঁছানোর ফলে তার জামানতও বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

নওগাঁ-৩ (বদলগাছী ও মহাদেবপুর) আসনে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যার মধ্যে ছয়জনই ৮% ভোটের নিচে গেছেন। স্বাধীন প্রার্থী পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকি (জনি) ১৭,১২৯ ভোটে ৫.৩% পেয়েছেন, যা সীমা অতিক্রম করতে পারেনি। বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের আব্দুল্লাহ আল‑মামুন সৈকত মাত্র ১৯৫ ভোট পেয়েছেন, আর বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের কালিপদ সরকার ১,২৩৩ ভোটে ৩.৮% পেয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির নাসির বিন আছগর ৩,৬৪৩ ভোটে ১.১% এবং জাতীয় পার্টির মাসুদ রানা ৪,৮৬৯ ভোটে ১.৫% পেয়েছেন। স্বাধীন প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন (জাহাজ) ৮২৩ ভোটে ০.৯% পেয়েছেন। এই ছয় প্রার্থীর ভোটসংখ্যা মোট ভোটের এক-অষ্টাংশের নিচে থাকায় তাদের জমা বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নওগাঁ-৩ এর ১৪২টি কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৪০,৭৮৫, যার মধ্যে ৩,২১,৯৬৭ ভোট প্রদান করা হয়েছে।

নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে চারজন প্রার্থী ছিলেন, যাঁদের প্রত্যেকেই ৮% ভোটের মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারেননি। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির ডা. এস. এম. ফজলুর রহমান (কাস্তে) ২,৩১৩ ভোটে ১.১% পেয়েছেন, জাতীয় পার্টির আলতাফ হোসেন ১,৩২৭ ভোটে ১% অর্জন করেছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির সোহরাব হোসাইন ৬০৯ ভোটে ০.৯% এবং স্বাধীন প্রার্থী আরফানা বেগম (কলস) ৭১২ ভোটে ১% পেয়েছেন। এই চার প্রার্থীর ভোটসংখ্যা মোট ভোটের এক-অষ্টাংশের নিচে থাকায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নওগাঁ-৪ এর ১১৭টি কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৩৩,৮৬০।

এই ফলাফলগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচনী বিধি প্রয়োগের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে। জামানত হারানো প্রার্থীরা পরবর্তী নির্বাচনে পুনরায় অংশগ্রহণের জন্য আর্থিক দায়িত্বের মুখোমুখি হবেন, যা তাদের প্রচারণা কৌশল ও ভোটাভোয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে, প্রার্থীরা ভোট সংগ্রহের হার বাড়াতে কৌশল পরিবর্তন, জোট গঠন বা ভোটার ভিত্তি সম্প্রসারণের দিকে মনোযোগ দিতে পারেন।

নওগাঁ অঞ্চলের এই জামানত হারানোর ঘটনা দেশের অন্যান্য নির্বাচনী এলাকায়ও সমানভাবে প্রযোজ্য হতে পারে, কারণ ভোটের এক-অষ্টাংশের নিচে থাকা প্রার্থীদের জন্য একই শর্ত প্রযোজ্য। ভবিষ্যতে প্রার্থীদের জন্য ভোটের ন্যূনতম সীমা পূরণ করা কেবল আর্থিক দায়িত্ব থেকে রক্ষা নয়, বরং রাজনৈতিক দৃশ্যপটে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments