গাইবান্ধা জেলার সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের খামার বল্লমঝাড় গ্রামে শুক্রবার রাত আটটার দিকে এক আইনজীবীর সহকারীকে কুপি মারার মাধ্যমে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি গ্রামের প্রধান বাসস্থান এলাকার একটি বাড়ির উঠানে সংঘটিত হয়, যেখানে অপরাধটি রাতের অন্ধকারে অপ্রত্যাশিতভাবে ঘটেছে।
মৃতদেহের পরিচয় অমিতাভ চন্দ্র, যিনি সুজন নামেও পরিচিত, বয়স আটত্রিশ বছর। তিনি গাইবান্ধা জজ আদালতে আইনজীবীর সহকারী (মহুরী) হিসেবে কাজ করতেন এবং তার জীবিকা এই পদ থেকে অর্জন করতেন। পরিবারে তিনি একমাত্র সন্তান ছিলেন এবং তার কাজের মাধ্যমে পরিবারের আর্থিক চাহিদা পূরণ হতো।
সন্ধ্যাকালীন সময়ে সুজন তার নিজ বাড়ির উঠানে ছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি গেট খুলে ভিতরে প্রবেশ করে, পিছন থেকে হঠাৎ তার মাথায় এলোপাথাড়িভাবে কুপি মারেন এবং দ্রুতস্থান ত্যাগ করেন। কুপিটি তীক্ষ্ণ এবং শক্তিশালী ছিল, যা শিকারের তৎক্ষণাৎ অচেতন করে দেয়।
আতঙ্কিত চিৎকার শোনা মাত্রই ঘরের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং আহত ব্যক্তিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা সত্ত্বেও শিকারের শ্বাসপ্রশ্বাস পুনরুদ্ধার করা যায়নি এবং তিনি হাসপাতালে পৌঁছানোর পথে মৃত্যুবরণ করেন।
মৃতের ভাই সুধান চন্দ্র রায় জানান, গত তিন-চার বছর থেকে সুজনের সঙ্গে স্থানীয় এক ব্যক্তির মধ্যে বিরোধ চলছিল। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিরোধের মূল কারণ স্পষ্ট না হলেও, পূর্বের টানাপোড়েনের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাথমিক তদন্তে পূর্বের বিরোধের জের ধরে এই অপরাধের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে কুপির টুকরা, রক্তের দাগযুক্ত জামা এবং গেটের ভাঙা তালা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, গ্রামবাসীর কাছ থেকে পাওয়া বিবরণে বলা হয়েছে যে অপরাধের সময় কয়েকজন অচেনা ব্যক্তি গেট খুলে প্রবেশ করেছিল।
পুলিশের মতে, কুপি মারার পদ্ধতি এবং ঘটনার স্থান থেকে পাওয়া প্রমাণগুলো নির্দেশ করে যে অপরাধটি পূর্ব পরিকল্পিত ছিল। বর্তমানে জড়িত ব্যক্তিদের সনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তার করার জন্য দলগত অভিযান চালু রয়েছে। সন্দেহভাজনদের সন্ধানে পুলিশ গৃহস্থালির নিকটবর্তী এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে এবং সম্ভাব্য গোপনীয় গন্তব্যস্থল পরীক্ষা করছে।
বল্লমঝাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান উল্লেখ করেন, গ্রামবাসীরা এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনার শিকার হয়ে শোকাহত এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন। তিনি জানান, গ্রামটি সাধারণত শান্তিপূর্ণ, তবে এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।
আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে, কুপি মারার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড ‘হত্যা’ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কাজ করা ব্যক্তি হবার কারণে, এই ঘটনা সামাজিক ও আইনি দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব পায় এবং স্থানীয় আদালতে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের তদন্তে এখনো কোনো সন্দেহভাজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে জড়িতদের শনাক্ত করার জন্য গ্রামবাসীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত তথ্য, ভিডিও রেকর্ডিং বা কোনো সাক্ষীর বিবরণ পাওয়া মাত্রই তা তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
অভিযান চলমান থাকায়, গাইবান্ধা সদর থানা স্থানীয় পুলিশ স্টেশনকে নির্দেশ দিয়েছে যে, সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার এবং দফন করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সময়ে সময়ে আপডেট প্রদান করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার শোনানির তারিখ নির্ধারণের পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে।
এই হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত প্যাডকাস্ট এবং গশ্বর ব্যবস্থা চালু করেছে। গ্রামবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধ করা লক্ষ্য রেখে, স্থানীয় সরকারও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে।



