পেশোয়ার জালমি ২৬ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পিএসএল ১১তম আসরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ডানহাতি গতিময় পেসার শাহনওয়াজ দাহানিকে সরাসরি চুক্তিতে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে। দাহানি পাকিস্তানের হয়ে দুইটি ওয়ানডে এবং এগারোটি টি‑টোয়েন্টি ম্যাচে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রাখেন, ফলে তার আন্তর্জাতিক পটভূমি জালমির দলে নতুন গতি যোগ করবে।
দাহানির বেস মূল্য নিলামে ১ কোটি ১০ লাখ রুপি নির্ধারিত থাকলেও কোনো দলই তাকে কিনতে সক্ষম হয়নি, ফলে জালমি কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরাসরি চুক্তি করে তাকে দলে নিয়ে আসে। চুক্তির আর্থিক শর্ত প্রকাশ করা হয়নি, তবে দলটি নিলামের পর অবশিষ্ট বাজেট ব্যবহার করে এই পদক্ষেপটি সম্পন্ন করেছে বলে জানানো হয়েছে।
জালমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাহানির যোগদানের ঘোষণা দিয়ে তার নতুন গতি, ডানহাতি ভ্যারিয়েশন এবং স্বতন্ত্র উইকেট উদযাপনকে প্রশংসা করেছে। “ইয়েলো স্টর্মকে বিদ্যুতায়িত করতে প্রস্তুত” এমন বার্তায় দাহানিকে নতুন ঘরে স্বাগত জানিয়ে দলীয় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা হয়েছে। দাহানির স্বাক্ষর উদযাপন তার পরিচিত বৈশিষ্ট্য, যা ভক্তদের মধ্যে ইতিমধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
নিলামের সময় জালমি মোট দশজন বিদেশি খেলোয়াড়কে দলে যুক্ত করেছে, যার মধ্যে জেমস ভিন্স, মাইকেল ব্রেসওয়েল এবং কুশল মেন্ডিস অন্তর্ভুক্ত। যদিও দাহানি নিলামে বিক্রি হয়নি, তবু দলের বাজেটের পর্যাপ্ততা তাকে সরাসরি চুক্তিতে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এই পদক্ষেপটি জালমির স্কোয়াডে অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তির সমন্বয়কে আরও দৃঢ় করবে।
২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন জালমি তার মূল স্কোয়াডকে দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছে। প্লাটিনাম ক্যাটাগরিতে বাবর আজম (৭.০০ কোটি রুপি), সিলভার ক্যাটাগরিতে সুফিয়ান মুকিম (৪.৪৮ কোটি রুপি), গোল্ড ক্যাটাগরিতে আবদুল সামাদ (২.৮০ কোটি রুপি) এবং ইমার্জিং ক্যাটাগরিতে আলি রাজা (১.৯৬ কোটি রুপি) রিটেইন করা হয়েছে। এছাড়া সরাসরি সাইনিংয়ে অ্যারন হার্ডি, আমের জামাল (১.৯০ কোটি রুপি), মোহাম্মদ হারিস (২.২০ কোটি রুপি), খালিদ উসমান (৬০ লাখ রুপি) এবং তরুণ বাংলাদেশি পেসার নাহিদ রানা (৬০ লাখ রুপি) অন্তর্ভুক্ত।
নাহিদ রানা, যিনি ৬০ লাখ রুপি মূল্যে দলে যোগদান করেছেন, তার উপস্থিতি বাংলাদেশি ভক্তদের দলে অতিরিক্ত আকর্ষণ যোগাচ্ছে। রানা এবং দাহানির সমন্বয় জালমির বোলিং আক্রমণকে উভয় অভিজ্ঞতা ও তরুণ উদ্যমের মিশ্রণ প্রদান করবে বলে দলীয় কর্মকর্তারা আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
দাহানি পূর্বে রাওয়ালপিন্ডি ফ্র্যাঞ্চাইজির (বর্তমানে রিব্র্যান্ডেড) হয়ে চার মৌসুম খেলেছেন এবং ২০.৮৪ গড়ে ৩৯টি উইকেট সংগ্রহ করে নিজেকে কার্যকর পেসার হিসেবে প্রমাণ করেছেন। তার এই পারফরম্যান্স জালমির জন্য অতিরিক্ত মূল্যবান, কারণ তিনি টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গতি ও ভ্যারিয়েশন দিয়ে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম।
পিএসএল ১১তম আসরের সূচি নিশ্চিত হওয়ায় জালমি এখন নতুন সংযোজন এবং রিটেইন করা খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রাক-টুর্নামেন্ট প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। দাহানির আক্রমণাত্মক বোলিং এবং নাহিদ রানার তরুণ গতি দুজনই দলের ব্যাটিং ও ফিল্ডিং ব্যালান্সকে সমর্থন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
দলীয় কৌশলগত পরিকল্পনা অনুযায়ী, দাহানির স্বাক্ষর উদযাপন এবং ডানহাতি ভ্যারিয়েশনকে “ইয়েলো স্টর্ম”ের নতুন রঙ হিসেবে ব্যবহার করা হবে, যা শীঘ্রই শুরু হওয়া ম্যাচগুলোতে দর্শকদের জন্য উত্তেজনা বাড়াবে। জালমি এই সংযোজনের মাধ্যমে পিএসএল ১১-এ প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী বোলিং ইউনিট গড়ে তুলতে চায়।
সারসংক্ষেপে, শাহনওয়াজ দাহানির সরাসরি চুক্তি, নাহিদ রানার সঙ্গে তার সমন্বয় এবং রিটেইন করা মূল খেলোয়াড়দের সমন্বয় পেশোয়ার জালমিকে এই মৌসুমে শীর্ষস্থানীয় দল হিসেবে অবস্থান করতে সহায়তা করবে। দলটি এখন শীঘ্রই শুরু হওয়া প্রথম ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে নতুন সংযোজনের পারফরম্যান্স সরাসরি ফলাফলে প্রভাব ফেলবে।



